ভারত ইতোমধ্যে অন্যান্য রাষ্ট্রে করোনা ভ্যাকসিন সরবরাহ পুনরায় শুরু করেছে বলে সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে জানিয়েছেন মোদী।

জাতিসংঘের ৭৬ তম সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখলেন নরেন্দ্র মোদী। মাত্র ২১ মিনিটের ভাষণে বিকাশ থেকে সন্ত্রাসবাদ, ভ্যাকসিন থেকে অর্থনীতি সবকিছুই জায়গা পেলো তাঁর কণ্ঠে। উঠে এল প্রগতি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির কথাও। বিশ্বের দরবারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইংরেজি নয়, বরং হিন্দিকেই বেছে নিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।



মোদীর এবারের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ভাষণ নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। নিজ ভাষণে ভারতকে বিশ্বের ভ্যাকসিন উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। গোটা বিশ্বে ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারকদের আহ্বান জানিয়ে মোদী বলেন, “আসুন, ভারতে ভ্যাকসিন তৈরি করুন।”



ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশে দাঁড়িয়েছি আমরা। বিশ্বের সবথেকে বড় টিকা উৎপাদনকারী দেশ ভারত। মাঝে করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদেশে টিকা রফতানি ও অনুদান বন্ধ থাকলেও, এখন ফের তা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশকে প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা পাঠাচ্ছি আমরা।” ভারত জুড়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ কোটি ভ্যাকসিন প্রদানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান মোদী।



এছাড়া, ভারত বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ডিএনএ টিকা তৈরী করেছে বলেও জানান তিনি। মোদী বলেন, “আমি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকে জানাতে চাই যে, ভারত বিশ্বের প্রথম ডিএনএ ভিত্তিক টিকা তৈরি করেছে। এটি বারো বছরের বেশি বয়সী যে কাউকে দেওয়া যেতে পারে। একটি এম-আরএনএ ভিত্তিক টিকাও তৈরির কাজ চলছে। ভারতীয় বিজ্ঞানীরাও একটি নাসাল স্প্রেও তৈরি করছেন করোনার প্রতিষেধক হিসেবে।”



প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, “ভারতের উন্নতি হলে একইসঙ্গে বিশ্বেরও উন্নতি হবে। ভারতে যদি পুনর্গঠন, সংস্কার হয়, তাহলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের উপরেও পড়বে। গত দেড় বছরে, সমগ্র বিশ্ব শতাব্দীর সবথেকে খারাপ অতিমারি পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। যাঁরা এই ভয়ঙ্কর অতিমারিতে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই এবং আমি তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”



একই সঙ্গে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত যেকোনো চিকিৎসক বা আবিষ্কারকরা যে দেশেই অবস্থান করুন না কেন, তাঁদের মানবসেবায় এগিয়ে আসার আহবান জানান মোদী।



নিজ বক্তব্যে আফগানিস্তান এবং সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতেও সরব হোন মোদী। পাকিস্তানের নাম না করে তিনি বলেন, “যে দেশ সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে, তাদের বুঝতে হবে যে সন্ত্রাসবাদ তাদেরও বিপদ ডেকে আনবে।”



পাশাপাশি আফগানিস্তান ইস্যুতে তাঁর মন্তব্য, “আফগানিস্তানের মাটি সন্ত্রাসবাদের জন্য যেনো ব্যবহার না হয়। অথবা কোনও দেশ যেন সেখানকার অশান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর চেষ্টা না করে। ওখানকার মহিলা, সংখ্যালঘুদের সাহায্য প্রয়োজন, আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।”



তাছাড়া, জলবায়ু ইস্যুতেও সরব হোন মোদী। বিশ্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন। আর সেই লক্ষ্যে ভারত কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আর সেদিকে তাকিয়ে বিশ্বের সবথেকে বড় গ্রীন হাইড্রোজেন হাব ভারতে তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।



এসময়, আত্মনির্ভর ভারত গড়তে নিজের পূর্ব অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন মোদী।