সীতারামন বলেন, আগামী দিনে দেশের ব্যাংক সমূহকে আরও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

দ্রুত বদলাচ্ছে ভারতের অর্থনীতি। সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (এসবিআই) মতো অন্তত চার থেকে পাঁচটি বড় ব্যাংক। গত ২৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার, মুম্বাইয়ে ‘ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন’ -এর ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে এমনটাই জানালেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।



নিজ বক্তব্য প্রদানকালে সীতারামন বলেন, “করোনার ধাক্কায় আর সব কিছুর মতো ব্যাংক পরিষেবাতেও বদল এসেছে এবং এই করোনা-পরবর্তী পৃথিবীতে বিশ্বের বহু দেশের ব্যাংকের তুলনায় ভারত অনেক দ্রুত ডিজিটাইজেশন পরিকাঠামোকে আপন করে নিতে পেরেছে। ব্যাংক পরিষেবার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে গেলে তাই দেশে এসবিআইয়ের মতো অন্তত চারটি ব্যাংক দরকার।”



এর মধ্যে ডিজিটাল পরিকাঠামোর কথা আলাদা করে উল্লেখ করেন ভারতীয় অর্থমন্ত্রী। সীতারামন বলেন, “আগামী দিনে দেশের ব্যাংক সমূহকে আরও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।”



উল্লেখ্য, করোনা আবহে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। তবুও ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারত। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণ ব্যাংক সমূহের পরিষেবায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।



এই প্রসঙ্গে মোদী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, “এসব অঞ্চলে আরও ব্যাংকের শাখা প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তা রাতারাতি সম্ভব না হলেও এটা নিশ্চিত করতে হবে, যেনো অন্তত ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন বজায় রাখা সম্ভব হয়।”



নির্মলা সীতারামন বলেন, “এসব অঞ্চলের ডিজিটাল ম্যাপিং করে খুঁজে দেখতে হবে কোথায়, কোন জায়গায় ব্যাংক থাকা দরকার। তারপর সেভাবে ওই সব অঞ্চলের গ্রাহকদের ডিজিটাল পরিষেবা দিতে হবে।”



দেশের দুই তৃতীয়াংশ পঞ্চায়েতেই অপটিক ফাইবারের ইন্টারনেট রয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, “ব্যাংক গুলোকেই এটা খুঁজে বের করতে হবে কীভাবে এসব অঞ্চলে ডিজিটাল পরিষেবা নিশ্চিত করা যায়।”



এসময়, ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে পণ্য খাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিষেবা খাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার করে মোট ২ ট্রিলিয়ন ডলার রপ্তানী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলেও জানান সীতারামন।



এছাড়া, ভারতের ইউপিআই সিস্টেমকেও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা ব্যখ্যা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে ভারতের ইউপিআই সিস্টেম বিশ্বজুড়ে অনেক বড় প্রভাব ফেলেছে। এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ভবিষ্যতে ডিজিটাল অর্থ প্রদানের প্রতীক হিসেবে ভারতের ইউপিআই সর্বত্র সমাদৃত হবে।”