বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চায়নে ভারত সক্রিয় অবদান রেখেছে বলে জানান ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব।

পারমানবিক অস্ত্রের অবৈধ নেটওয়ার্ক বিস্তার রোধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে মনযোগী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। এক্ষেত্রে এসব অস্ত্রের বিতরণ ব্যবস্থা, উপাদান সামগ্রী এবং প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তির প্রতি নজরদারির পরামর্শ দেন তিনি।



২৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে এসব মন্তব্য করেন ভারতীয় এই কূটনীতিক। পাশাপাশি অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গঠনের লক্ষ্যে এবং পারমাণবিক অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলকরণে ভারতের পূর্ব অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।



এসময়, সিটিবিটি সহ বেশ কিছু বিষয়ে মন্তব্য করেন শ্রিংলা। ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার: ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি’ -শীর্ষক বক্তব্যে তিনি বলেন, “ভারত নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে খসড়া সিটিবিটি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু তারপরও আমরা কমপ্রিহেনসিভ নিউক্লিয়ার-টেস্ট-ব্যান ট্রিটিতে (সিটিবিটি) যোগদান করতে পারিনি কারণ চুক্তিটি নয়াদিল্লির মূল উদ্বেগের সমাধান করতে পারেনি।”



পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টায় ভারতের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি আরও যোগ করেন, “ভারতই প্রথম দেশ হিসেবে ১৯৫৪ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা এবং ১৯৬৫ সালে পারমানবিক অস্ত্রের অপসারণের বিষয়ে একটি বৈষম্যহীন চুক্তির আহবান করেছিলো। এখনও পারমাণবিক পরীক্ষায় একতরফাভাবে স্ব প্রণোদিত হয়ে স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছি আমরা।”



এসময়, ভারত ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন, জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ কমিশন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটির’ সমন্বয়ে নিরস্ত্রীকরণ ট্রায়ডের কাঠামোতে কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানান শ্রিংলা। একই সঙ্গে, বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চায়নে ভারত সক্রিয় অবদান রেখেছে বলে অভিমত দেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব।



এছাড়াও, সন্ত্রাসীরা যেনো কোনোভাবেই গণবিধ্বংসী অস্ত্র অর্জনে সক্ষম না হয়, সে বিষয়ে ভারত সর্বাত্মক কাজ করছে জানিয়ে শ্রিংলা বলেন, “এই উদ্দেশ্যে শীঘ্রই আমরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি বার্ষিক প্রস্তাবও পেশ করবো।”



সবশেষে নিজের পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের কথা পুনরায় সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন শ্রিংলা। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, বিশ্ব সম্প্রদায় আমাদের চাওয়াকে সম্মান দিবে, উপলব্ধি করবে এবং একই সঙ্গে তারাও এ ধরণের মনোবাসনা পোষণ করবে।”