ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অবিরাম ভিত্তিহীন অভিযোগ মোকাবেলায় এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে দিল্লী।

পাকিস্তানকে অবিলম্বে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছে ভারত। গত ২৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার, জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪৮ তম অধিবেশনে সাধারণ বিতর্কের সময় পাকিস্তানকে কড়া জবাব দেয় ভারত।

উক্ত অধিবেশনে পাকিস্তান কর্তৃক ভারতের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ হিসেবে আখ্যা দেন জেনেভায় ভারতীয় মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফার্স্ট সেক্রেটারি এস সেনথিল কুমার। একই সঙ্গে, ভারতের বিরুদ্ধে এ যাবতকালে পাকিস্তানের যাবতীয় অভিযোগ জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে তাঁদের হিংসা এবং হতাশার প্রতিফলন বলেও অভিযোগ তোলেন সেনথিল কুমার।

এসময়, জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে, পাকিস্তানকে অবিলম্বে ভারতীয় ভূখন্ড ত্যাগ করার আহবানও জানান তিনি। সেনথিল কুমার বলেন, “এটা খুবই বিড়ম্বনার বিষয় যে, পাকিস্তানের মতো একটি মৌলবাদী এবং রাষ্ট্র, যারা কী না গণতন্ত্র এবং সংস্কৃতির প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করেনা, তারা ভারতের মতো পৃথিবীর বৃহত্তম এবং সবচেয়ে প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার সাহস পাচ্ছে।”

পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ বন্ধের আহবান জানিয়ে সেনথিল কুমার বলেন, “পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল এবং সহিংসতার রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। পাকিস্তানের সাবেক অনেক রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীগণ ইতোপূর্বে নিজেদের সন্ত্রাসী মদদের অভিযোগ স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছেন।”

এছাড়াও, পাকিস্তানে জনগণের মানবাধিকার ইস্যুতে সরব হোন সেনথিল কুমার। তিনি বলেন, “পাকিস্তানে জোরপূর্বক গুম, খুন নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার। সেখানে রাষ্ট্রযন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে কথা বললেই নির্বিচারে আটক ও অত্যাচার করা হয়”

আলোচনাকালে, পাকিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি এবং সবশেষে পাকিস্তানকে নিজেদের আভ্যন্তরীণ সমস্যা ও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর পরামর্শ দেন সেনথিল কুমার।