এই অঞ্চল গুলোকে সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করলে অত্র এলাকা জুড়ে অবৈধ এবং অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা বন্ধ হবে।

পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা এবং ওয়েডেল সাগরকে সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে সমর্থন দিয়েছে ভারত। ৩০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আয়োজিত একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে উক্ত বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।



ভার্চুয়াল এই বৈঠকটি উপস্থাপনা করেন ইইউ এর মহাসাগর ও মৎস্য খাতের পরিবেশ কমিশনার ভার্জিনিজাস সিনকেভিয়াস। প্রায় ১৮ টি রাষ্ট্রের মন্ত্রী বা রাষ্ট্রদূতগণ বৈঠকে অংশ নেন।



বৈঠকে ভারতের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ভূমি বিজ্ঞান প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। তিনি বলেন, “অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় যেকোনো টেকসই পদক্ষেপে সমর্থন করে ভারত।”



মন্ত্রী আরও বলেন, “প্রস্তাবিত সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল অত্র এলাকা জুড়ে অবৈধ এবং অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা বন্ধ করবে।” পরবর্তীতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিস্তারিত জানায় ভারতের ভূমি ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়।



এসময়, সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চলের পরিকল্পনা প্রণয়ন, অভিযোজন, বাস্তবায়নের সঙ্গে ভারতকে যুক্ত রাখতে কমিশন ফর কনভার্সেশন অফ এন্টার্কটিক মেরিন লিভিং রিসোর্সেস (সিসিএএমএলআর) -এর সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহবান জানান মন্ত্রী জিতেন্দ্র।



প্রসঙ্গত, সামুদ্রিক সুরক্ষিত এলাকা ঘোষণার অর্থ হচ্ছে, এমন একটি পদক্ষেপ নেয়া হবে বা ঘোষণা দেয়া হবে, যার ফলে একটি নির্দিষ্ট সমুদ্র এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদের সার্বিক সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব হবে। এখানে প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ, প্রাণীদের বাসস্থান সুরক্ষা, বাস্তুতন্ত্র পর্যবেক্ষণ কিংবা মৎস্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় গুলো জড়িত থাকে।



পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা এবং ওয়েডেল সাগরকে সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করতে গিয়ে এবারই প্রথম ভারত এই ধরণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলো এবং আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চিলি, কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো রাষ্ট্র গুলোর সঙ্গে এক কাতারে এসে মিশলো।



প্রস্তাবটিতে ভারতের সমর্থন দেয়ার মূল উদ্দেশ্য অঞ্চল জুড়ে টেকসই উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভারতের পূর্ব অঙ্গীকার বলে জানান মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। উল্লেখ্য, সর্বপ্রথম ২০২০ সালে উক্ত এলাকা জুড়ে সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু সে সময় সিসিএএমএলআর এর সদস্য দেশ গুলো একমত হতে পারেনি। তবে এবার, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, উরুগুয়ে এবং যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ভারতও ঐক্যমত পোষণ করায় প্রস্তাবটি সহজেই পাশ হয়ে যায়।



জিতেন্দ্র সিং আরও জানান, ভারত সর্বপ্রথম ১৯৮১ সালে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে অ্যান্টার্কটিক অভিযান পরিচালনা করে এবং এরপর থেকে অব্যহত ভাবে এলাকাজুড়ে শান্তি, সাম্য ও নিরাপত্তা নিশ্চায়নে কাজ করছে। এখনও অবধি এই অঞ্চলে ভারত প্রায় ৪০ টি অভিযান সম্পন্ন করে ৪১ তম অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।



প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সাল থেকে সিসিএএমএলআর এর স্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ভারত। অ্যান্টার্কটিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে সংগঠনটি দৃঢ় ভূমিকা রাখছে। এটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।