শতকরা ৮৭ শতাংশ হারে ভারত বিশ্বের সর্বোচ্চ ফিনটেক গ্রহণ করছে

দেশজুড়ে মোবাইল এবং ইন্টারনেটের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে ভারত শীঘ্রই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল বাজার হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গয়াল। এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেশটিতে বিদ্যমান প্রায় দু হাজার একশ ফিন প্রযুক্তির কথা তুলে ধরেন তিনি।

৩০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২য় গ্লোবাল ফিনটেক উৎসব – ২০২১ এ ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “ভারত আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই আমাদের শিল্প ও উদ্যোক্তাগণও বিশ্বব্যাপী নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরুন, স্থানীয় প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করুন।”

গয়াল জানান, শতকরা ৮৭ শতাংশ হারে ভারত বিশ্বের সর্বোচ্চ ফিনটেক গ্রহণ করছে। এসময়, ভারতের ইউনাইটেড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) নিয়েও কথা বলেন তিনি। পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে ভারতের ইউপিআই সিস্টেম বিশ্বজুড়ে অনেক বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানান তিনি।

গয়াল বলেন, “২০২১ সালের মে মাস অবধি ভারতের ২২৪ টি ব্যাংকের অংশগ্রহণে ইউপিআই তে প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়েছে। প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার গড়ে নিয়মিত এই ট্রাঞ্জেকশন হচ্ছে। গত ২১ আগস্ট সর্বোচ্চ সাড়ে তিন বিলিয়ন পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।”

তাছাড়া, ভারতের আধার কার্ড, সক্ষম পেমেন্ট সিস্টেমসে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসময় ডিজিটাল ভারত এবং ডিজিটাল অর্থনীতি গড়তে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সর্বাত্মক লক্ষ্য ও প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন গয়াল।

প্রসঙ্গত, আর্থিক (ফাইন্যান্সিয়াল) খাতে প্রযুক্তির (টেকনোলজি) ব্যবহারকে সংক্ষেপে ফিনটেক বলে। ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বোর্ডের (এফএসবি) মতে, ফিনটেক হলো প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম আর্থিক উদ্ভাবন। যেমন নতুন ব্যবসায়িক মডেল, মডেলের প্রয়োগ, প্রসেসিং, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদি, যা আর্থিক পরিষেবা খাতকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে।

ফিনটেক এরই মধ্যে পি-টু-পি, চেক জমা, অর্থের লেনদেন, বিল পরিশোধ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ক্রাউড ফান্ডিং ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। অন্যদিকে ‘ফিয়াট মানি’র (কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ধাতব বা কাগজি মুদ্রা) বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রার (ক্রিপ্টোকারেন্সি) প্রচলন শুরু হয়েছে। যেমন বিটকয়েন, ফেসবুক প্রস্তাবিত লিবরা ইত্যাদি। এগুলোও ফিনটেকের উদাহরণ।

ফিনটেকের বৈশ্বিক বাজার কত, তা সঠিকভাবে শনাক্ত করা কার্যত অসম্ভব। কেননা কেউ ব্যাংকিং খাতের লেনদেনকে ফিনটেকের আওতাভুক্ত করেছেন, আবার কেউ তা করেননি। তবে ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ১৫৭ শতাংশ বেশি।

ইনসুরটেকের (প্রযুক্তি সক্ষম বীমা লেনদেন) পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০১৮ সালে যার পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বার্ষিক বৃদ্ধির পরিমাণ ৫৫ শতাংশ) । অন্যদিকে ২০১৯ সালে ডিজিটাল অর্থ প্রদানের (বীমা এবং ব্যাংকিং খাত ছাড়া যেমন কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আদান-প্রদান ইত্যাদি) পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১৮ সালে ছিল ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ফিনটেক সেবা প্রদানের নিমিত্তে বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপের উত্থান গত কয়েক বছর ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৯২৫, যার দুই-পঞ্চমাংশই (৮,৭৭৫) উত্তর আমেরিকা তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। এর পরে রয়েছে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকান দেশগুলো (৭,৩৮৫)। এশিয়া প্যাসিফিক দেশগুলোয় ফিনটেক স্টার্টআপের সংখ্যা হলো ৪ হাজার ৭৬৫। তবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে চীন বেশ অগ্রগামী। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ফিনটেক ফার্ম, ‘অ্যান্ট ফাইন্যান্সিয়াল’ (আলিপের মালিক)-সহ অনেক নামিদামি ফিনটেক ফার্ম রয়েছে চীনে।

ভারতে বর্তমানে ফিনটেক বাজার ইউনিকর্ন এবং ভারতের বাজারের মূল্যে প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছেন পীযূষ গয়াল। ২০২৫ সালের মধ্যে এটি ৮৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।