পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কেবল আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির জন্য নয়, অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্র সমূহের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে দিক নির্দেশক।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ভারত-মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মেলনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অনেক গুলো নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরাম (ইউএসআইএসপিএফ) এর বার্ষিক লিডারশিপ সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।



জয়শঙ্কর বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কেবল আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির জন্য নয়, অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্র সমূহের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে দিক নির্দেশক। ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত ভালো অবস্থায় রয়েছে। আশা করি আমাদের মিত্রতা বৈশ্বিক কল্যাণের জন্য কাজ করবে।”



এসময়, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “আফগান ইস্যুতে নীতিগত স্তরে আমরা একই পৃষ্ঠায় রয়েছি এবং অবশ্যই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান একই রকম। আফগানিস্তানের ভূখন্ড ব্যবহার করে পরিচালিত সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড আটকাতে বদ্ধপরিকর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।”



আলোচনাকালে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জয়শঙ্কর বলেন, “কোয়াড ভূক্ত প্রত্যেক দেশ সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে পৃথিবীর কল্যাণ সাধন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”



অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক আরও বলেন, “আমরা নতুন অনেক ইস্যুতে একসাথে কাজ করতে চলেছি। আমেরিকা আমাদেরকে প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতা করবে। মহামারী মোকাবেলায় নেতৃত্ব দিতে কোয়াডভূক্ত অন্যান্য দেশও এগিয়ে আসছে।”



চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ইস্যুতেও মুখ খুলেন মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য। তিনি বলেন, “চীনের সঙ্গে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সম্পর্ক রয়েছে। নানা ভাবে আমরা আমাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারি, তবে সেগুলো উভয় পক্ষকেই মেনে চলতে হবে। এক তরফা কিছুই সম্ভব নয়।”



এসময়, কোপ-২৬ শীর্ষ সম্মেলন ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “জি-২০ ভূক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভারতই একমাত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চলেছে। কার্বন নিঃস্বরণ এবং গ্রীন হাউজ গ্যাস কমাতে ভারতের ভূমিকা আজ বিশ্ব স্বীকৃত। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক সোলার এলায়েন্স গঠন করে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”



প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত জোট কোয়াড এর শীর্ষ নেতৃত্ব। গত ২৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাকালে করোনা মহামারী পরবর্তী টেকসই বিশ্ব গঠন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় লড়াই এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে গণতন্ত্র স্থিতিশীল রাখার উপর জোর দিয়েছেন নেতারা।