পীযূষ গয়াল বলেন, রাজনীতি, কূটনীতি এবং ক্রমবর্ধমান ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে ভারত।

বিশ্বের সকল উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে ভারতে বিনিয়োগের আহবান জানালেন ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গয়াল। পাশাপাশি, মহামারী পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির গতি পুনরায় সচল করতে ভারত বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও অভিমত দেন তিনি।



গত ০১ অক্টোবর, শুক্রবার, এক্সপো ২০২০ দুবাই -এ ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বিশ্বকে ভারতের নবযাত্রার অংশীদার হবার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের অর্থনীতিকে পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে এবং জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানীর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আগামী ২৫ বছরে ভারত উন্নতির শিখরে থাকবে।”



পীযূষ গয়াল বলেন, “রাজনীতি, কূটনীতি এবং ক্রমবর্ধমান ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে ভারত। আমাদের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সক্ষম ও যোগ্য প্রতিভা পু্ল‌, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শেখার ও নেতৃত্ব প্রদানের তীব্র ইচ্ছাকে পুঁজি করে আগামী দিন গুলোয় একটি টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চায়নের মাধ্যমে শক্ত রাষ্ট্রীয় ভিত্তি স্থাপনে বদ্ধপরিকর আমরা।”



এসময়, বিগত সাত বছরের বিজেপি শাসনামলে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নেয়া বিভিন্ন সংস্কারের বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে, ভারতকে একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার তীব্র ইচ্ছের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।



গয়াল বলেন, “ভারত ইতোমধ্যেই আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং মহাকাশ প্রযুক্তির বাজারে অন্যতম শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রবোটিক্স এর ব্যবহার দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে বহুগুণে।”



এক্সপো ২০২০ দুবাইয়ে ভারতের অংশগ্রহণের তাৎপর্যের উপর জোর দিয়ে গয়াল বলেন, “আমরা আমাদের স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষ উদযাপন করছি। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে এ বছর। দেশটি আমাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। এমন সময়ে এক্সপো ২০২০ আমাদের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে। আশা করি দু দেশের মধ্যকার দৃঢ় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে সম্পূর্ণ আয়োজনটির সুবাদে।”



উল্লেখ্য, ভারত ও আরব আমিরাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আর্থিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। গত অর্থবছরেও ভারতে বিনিয়োগকারী অষ্টম বৃহৎ রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত। বৈশ্বিক কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক নানা ইস্যুতে প্রায়শই একে অন্যকে সমর্থন করে থাকে দেশ দুটো।



প্রসঙ্গত, আরব বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সমাবেশ ‘এক্সপো’। পাঁচ বছর অন্তর আয়োজিত হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই আন্তর্জাতিক ইভেন্ট। এবার এটি আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে দুবাই। ০১ অক্টোবর শুরু হওয়া ‘দুবাই এক্সপো ২০২০’ চলবে আগামী ৩১ মার্চ, ২০২২ ইং অবধি। এ বছর ১৯১টি দেশ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আবিষ্কার, আলোচনা, ধারণা ও অভিজ্ঞতা ভাগ করার জন্য জড়ো হচ্ছে।



এবারের এক্সপোর লোগো লৌহযুগের প্রাচীন আংটির অনুকরণে বানানো হয়েছে, যেটি দুবাই শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুমের আবিষ্কৃত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। দুবাই এক্সপোর আয়োজকরা আশা করছেন, করোনা মহামারিতে সৃষ্ট জটিলতা সত্ত্বেও ছয় মাসের এক্সপোতে প্রায় আড়াই কোটি ক্রেতা-দর্শনার্থী অংশ নেবেন। তাই ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে গড়ে তোলা হয়েছে ভারতের প্যাভিলিয়ন।



এক্সপো ২০২০ দুবাই এর সেট আল-মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুবাই দক্ষিণ জেলার ৪ দশমিক ৩৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে। এটি তিনটি থিমভিত্তিক জেলায় বিভক্ত- সুযোগ, গতিশীলতা ও স্থায়িত্ব।



এক্সপোতে অংশগ্রহণকারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের দর্শকদের কোভিড-১- ভ্যাকসিন নেয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে অথবা আগের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর পরীক্ষায় নেগেটিভ আসতে হবে। টিকা না দেওয়া দর্শনার্থীরা এক্সপো সংলগ্ন করোনাভাইরাস পরীক্ষার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।