০১-০৩ অক্টোবর অবধি তিনদিনের জন্য ভারত সফরে এসেছিলেন রামিরেজ।

তিনদিনের সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে গিয়েছেন কলম্বিয়ার উপ-রাষ্ট্রপতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্টা লুসিয়া রামিরেজ। গত ০১-০৩ অক্টোবর অবধি সময়কালে তিনদিনের জন্য ভারত সফরে এসেছিলেন তিনি। ০৩ অক্টোবর, রবিবার, এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায় ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।



সফরকালে ভারতীয় উপ-রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রামিরেজ। উক্ত বৈঠক গুলোতে মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা ইস্যুতে মতবিনিময় করেন তাঁরা। এসময় নাইডু এবং জয়শঙ্কর উভয়কেই কলম্বিয়া সফরের আহবান জানান রামিরেজ। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬ তম অধিবেশনের ফাঁকে বৈঠক করেছিলেন জয়শঙ্কর ও রামিরেজ।



সফরে কলম্বিয়ার স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দলের ৪৮ জন প্রতিনিধির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রামিরেজ। তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন দেশটির স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা মন্ত্রী লুইজ ফার্নান্দো রুইজ। এর আগে গত ০৬ সেপ্টেম্বর, কলম্বিয়া সফরের সময় রামিরেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মীনাক্ষী লেখি।



রামিরেজের এবারের সফরে জ্বালানী, আইটি, ওষুধ শিল্প, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং অটোমোবাইল খাতে ভারত ও কলম্বিয়ার দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের উপর বিস্তর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তীতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জ্বালানী, আইটি, ওষুধ শিল্প এবং অটোমোবাইল খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে একত্রে কাজ করতে সম্মত হয়েছে ভারত ও কলম্বিয়া।



উল্লেখ্য, কলম্বিয়া এবং ভারতের মধ্যে উষ্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। গত ২০১৯ সালে দু দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে। শুধুমাত্র ২০২০-২১ অর্থবছরে দু দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছিলো। করোনা মহামারী সত্ত্বেও দু দেশের বাণিজ্য প্রায় দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।



ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার জন্য ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে ভারত ও কলম্বিয়া। টেকসই বায়োটেকনোলজি ইকোসিস্টেম সেক্টরে একত্রে কাজের অঙ্গীকারও করেছে তাঁরা। পাশাপাশি ভারত ও কলম্বিয়ার পাবলিক ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান সমূহের অংশীদারিত্ব ভিত্তিক কাজের বিষয়েও আলোচনা করছে ভারতীয় ও কলম্বিয়ান কর্তৃপক্ষ।



তাই কলম্বিয়ার উপরাষ্ট্রপতির ভারত সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার করেছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক বোদ্ধামহল।