দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সাম্প্রতিক সফরের ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে

লঙ্কান রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ০৫ অক্টোবর, মঙ্গলবার, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব জোরদারের নানা ইস্যুতে মতবিনিময় করেন তাঁরা।



বৈঠক শেষে কলম্বোয় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন এক টুইটবার্তায় জানায়, “লঙ্কান রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। দু দেশের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক আরও সুসংহত করার নানাবিধ উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন তাঁরা।”

টুইট লিঙ্ক: https://twitter.com/IndiainSL/status/1445298123589361666?s=20



চারদিনের লঙ্কা সফরের শেষদিনে কলম্বোয় কর্মরত ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন শ্রিংলা। পৃথক এক টুইটে বিষয়টি জানায় সেখানে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস।

টুইট লিঙ্ক: https://twitter.com/IndiainSL/status/1445299037649793033?s=20



উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র সচিব অ্যাডমিরাল প্রফেসর জয়নাথ কলম্বজের আমন্ত্রণে চারদিনের সফরে দেশটিতে যান শ্রিংলা। সফরকালে লঙ্কান রাষ্ট্রপতি ছাড়াও দেশটির প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।



এর পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় অবস্থানকালে ক্যান্ডি, ত্রিনকোমালি এবং জাফনা অঞ্চলে ভারতীয় অর্থায়নে চলমান নানান প্রকল্পের পরিদর্শন করেন শ্রিংলা। চলমান কিছু প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, গলে ওয়ালহান্দুয়া এস্টেট নির্মাণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ৫০,০০০ ঘর নির্মাণ এবং এস্টেট শ্রমিকদের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ। এসব প্রকল্পে ভারত প্রায় ২৭০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়ে রেখেছে।



প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে শ্রীলঙ্কার। ভারতের প্রতিবেশী প্রথম নীতির অন্যতম প্রধান মিত্র দ্বীপ রাষ্ট্রটি। ভারতের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও অর্থায়নে দেশটিতে ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, লঙ্কা জুড়ে আবাসন প্রকল্প; রেললাইন আপগ্রেড এবং ট্র্যাক-লেইং; কেকেএস বন্দরের পুনর্বাসন; ডিকোয়ায় মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল; জাফনায় বিমানবন্দর পুনর্গঠন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ; মান্নারে তিরুকেতেশ্বরম মন্দির পুনরুদ্ধার; জরুরী অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু সহ প্রভৃতি।



গত মে মাসেও কলম্বোর উপকূলে এমভি এক্সপ্রেস পার্লে আগুন লাগার পর তার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং গোটা অঞ্চলকে দূষণ মুক্ত করতে ভারতের ভূমিকা অনবদ্য। এছাড়া, লঙ্কার সৌরশক্তি প্রকল্প খাতে ভারত ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার লাইন অব ক্রেডিট বাড়িয়েছে।



তাছাড়া, বহুপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে উভয় রাষ্ট্র একে অন্যের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে বহুদিন যাবত। দু দেশের মধ্যে উষ্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। গত বছর থেকেই উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ আরও গভীর হয়েছে নয়াদিল্লি ও কলম্বোর মধ্যে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার লঙ্কান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এসব বৈঠকে মূলত দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভারতীয় অর্থায়নে শ্রীলঙ্কায় গৃহীত প্রকল্প সমূহের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।