গত ২৫ বছরে ভারত-আশিয়ান ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে বলে অভিমত দেন জয়শঙ্কর

ভারতের সঙ্গে আশিয়ানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, ভৌগলিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত গভীর বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পাশাপাশি ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ দেশটিকে ব্যাপকভাবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে বলেও অভিমত দেন তিনি। ০৭ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, ভারত-আশিয়ান বিজনেস সামিটের উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন জয়শঙ্কর।

মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই কর্তা বলেন, “গত ২৫ বছরে ভারত-আশিয়ান ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সহযোগিতার নিত্য নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে এবং হয়েছে।”

এসময় ভারত আশিয়ান সম্পর্কের নানাবিধ গতিপ্রকৃতি সম্পর্কেও আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “আমাদের পারস্পরিক অংশীদারিত্বে এখনও অবধি নানা ধরনের সংযোজন বা বিয়োজন হয়েছে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে চলে এসেছে। আমাদের লুক ইস্ট নীতি বর্তমানে অ্যাক্ট ইস্ট নীতিতে পরিণত হয়েছে। সার্বিকভাবে এই বিষয়গুলো আমাদেরকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আরও বেশি ভাবে সম্পৃক্ত করছে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আশিয়ান ভারতের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান কেন্দ্র। আমাদের বাণিজ্যিক খাতে অঞ্চলটির গুরুত্ব অপরিসীম।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আশিয়ান ও ভারতের ব্যবসায় অংশীদারিত্বের জন্য চারটি মূল ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ চেইন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চায়ন, সবুজ অর্থনীতি ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত টেকসই সহযোগিতা -এই চারটি বিষয়ে অংশীদারিত্ব করতে পারে ভারত ও আশিয়ান।”

এক পর্যায়ে দু পক্ষের অংশীদারিত্বের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ দু মেয়াদেই ভবিষ্যত পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক।

আলোচনাকালে কোভিড ভ্যাকসিন, কোয়াড প্রসঙ্গ এবং বহুপাক্ষিক নানা ইস্যুতে কথা বলেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন খাতে গভীর সহযোগিতার আহবান জানান তিনি। মহামারী মোকাবেলায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহবানও জানান তিনি।

এদিন, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে আরম্ভ করে আত্মনির্ভর ভারত গড়তে নিজেদের অঙ্গীকার অবধি সকল বিষয়েই বিশদ আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে সবুজ অর্থনীতি গড়তে ভারতের পূর্ব অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।


বৃহৎ ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বানের মাধ্যমে নিজ বক্তব্য শেষ করেন জয়শঙ্কর।

প্রসঙ্গত, অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি সেই বিশেষ কর্মকৌশল, যার মাধ্যমে ভারত আশিয়ানভূক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি জাপান, ভিয়েতনাম আর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে নিজেদের অর্থনৈতিক উত্থান নিশ্চিত করতে চায়। তবে এখন তা রাজনৈতিক, কৌশলগত ও সাংস্কৃতিক মাত্রা পেয়েছে।

দেশীয় ক্ষেত্রে ভারত সরকার কর্তৃক সড়ক, রেল, অন্তর্দেশীয় জলপথ পরিবহন, বিদ্যুৎ, বিমান বন্দর এবং টেলিকম সংযোগের ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জটিল পরিকাঠামোগত প্রকল্প সমাপ্ত করার ক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এই নীতির আওতায়।