বিশ্বের জন্য সাশ্রয়ী এবং টেকসই জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করে দেশ দুটো।

বিদ্যুৎ খাতে পরিবেশ বান্ধব শক্তির সন্নিবেশ ও রূপান্তর ঘটাতে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব ও সমন্বিত সহযোগিতা পূর্বক একত্রে কাজ করতে সম্মত হয়েছে ভারত ও যুক্তরাজ্য। গত ০৮ অক্টোবর, শুক্রবার, তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া ভারত-ইউকে এনার্জি ফর গ্রোথ পার্টনারশীপ -এর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে উক্ত বিষয়ে একমত হয় দু দেশ।



অনুষ্ঠানে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রী আর কে সিং এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসা, শক্তি ও শিল্প কৌশল (বিআইআইএস) সচিব কোয়াসি কোয়ারতেং।



পরবর্তীতে একটি আনুষ্ঠানিক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যৌথ পার্টনারশীপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জানা গিয়েছে, সৌর, অফশোর বায়ু, স্টোরেজ, ইভি, বিকল্প জ্বালানিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর সমন্বিত সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছে দু পক্ষ।



আসন্ন কোপ-২৬ শীর্ষ সম্মেলনের মাত্র তিন সপ্তাহ পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে গত ২০১৭ সালে সর্বপ্রথম ভারত-ইউকে এনার্জি ফর গ্রোথ পার্টনারশীপ এর বৈঠক আয়োজিত হয়েছিলো। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে এর দ্বিতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী মাসে কোপ-২৬ এর সম্মেলন যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।



বৈঠকের শেষে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়েছে, “বিদ্যুৎ খাতে পরিবেশ বান্ধব শক্তির সন্নিবেশ ঘটানোর জন্যে এবং সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানী সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। গতিশীল কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।”



এসময়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওয়ান সান, ওয়ান ওয়ার্ড, ওয়ান গ্রিড উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী আর কে সিং।



প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মে মাসে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিকল্পে রোডম্যাপ-২০৩০ ঘোষণা করা হয়। সেখানে দু দেশের মধ্যে চলতি দশকে বাণিজ্য ও অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা এবং সুরক্ষা, জলবায়ু, স্বাস্থ্য এবং অভিবাসন ও প্রত্যাবাসন নিয়ে ব্যাপক সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। এই চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ অঙ্গীকার হচ্ছে, চলতি দশকে দু দেশের মধ্যকার বাণিজ্য দ্বিগুণ করা।