সন্ত্রাসবাদ দমনে সকলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন জয়শঙ্কর।

মহামারী মোকাবেলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মতো সীমান্ত সন্ত্রাস রোধেও বিশ্ব সম্প্রদায়কে এক হওয়ার বার্তা দিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ১২ অক্টোবর, ২০২১, মঙ্গলবার, কাজাখস্তানের রাজধানী নূর সুলতানে কনফারেন্স অব ইন্টারেকশন এন্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস ইন এশিয়া (সিআইসিএ) -এর ষষ্ঠ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন তিনি।

জয়শঙ্কর বলেন, “সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিঃসন্দেহে বিশ্ব সন্ত্রাসেরই আরেক রূপ। যদি শান্তি এবং উন্নতি আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হয়, তাহলে আমাদেরকে নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে হবে। বর্তমান সময়ে এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হবে, তা আমরা মেনে নিতে পারিনা।”

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক আরও বলেন, “কেউ স্বীয় স্বার্থ উদ্ধারে চরমপন্থা, মৌলবাদ, সহিংসতা এবং ধর্মান্ধতাকে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যারা এ ধরণের বিষ লালন করে, তাঁরা আদতে নিজেদের জন্যেই কুয়া খনন করছে।”

মোদী মন্ত্রীসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী আফগানিস্তান ইস্যুতে বলেন, “কোভিডকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখনও আমরা পরিপূর্ণভাবে সফলকাম হতে পারিনি। তবে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি যদি ঘোলাটে হয়ে যায়, নিয়ন্ত্রণের বাইরে একেবারেই চলে যায়, তখন মহামারী নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সহ আমাদের যাবতীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টাতেও ব্যাঘাত ঘটবে।”

এসময়, সন্ত্রাসবাদ দমনে সকলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি জাতিসংঘের সংস্কার ইস্যুতেও কথা বলেন তিনি। জয়শঙ্কর বলেন, “আট দশক পূর্বে যখন বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলার হাত থেকে মুক্তি পেতে জাতিসংঘের গঠন হয়, তখন বিশ্বের রূপ ছিলো এক রকম! বর্তমান বিশ্ব আমূল পরিবর্তিত। প্রতিষ্ঠানটির সদস্য সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় চার গুণ। নিরাপত্তা পরিষদে এখনও আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাটিন আমেরিকার দেশগুলোর পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি। তাই সময় এসেছে শীঘ্রই জাতিসংঘের সংস্কার করার।”

এসময়, মহামারী মোকাবেলার অর্জিত সাফল্যের পাশাপাশি একেবারে তা নির্মূলে আরও কঠোর পরিশ্রম ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের উপর জোর দেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সকলের প্রকৃত এবং আন্তরিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিতের উপর জোর দেন তিনি।

মহামারীর হাত থেকে মুক্তি পেতে ভারতের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও তুলে ধরেন তিনি। জয়শঙ্কর জানান, পৃথিবীর প্রায় ১৫০ এর বেশি দেশকে ভ্যাকসিন, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করার মাধ্যমে পৃথিবীর ফার্মেসিতে পরিণত হয়েছে ভারত। স্বল্প ব্যায়ে গুণগত মান সম্পন্ন পণ্যের নিশ্চয়তা পেতে ভারতে বিনিয়োগের আহবানও জানান তিনি।

আলোচনার এক পর্যায়ে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রকে অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখন্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহবান জানান জয়শঙ্কর। পাশাপাশি সিআইসিএ বর্তমান আঞ্চলিক যাবতীয় সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।