ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মুরালিধরণ বলেন, এ ধরণের ফোবিয়ার সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকা নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল।

হিন্দু বিরোধী, বৌদ্ধবিরোধী এবং শিখ বিরোধী সহ সকল ধরণের ধর্মীয় ফোবিয়া আরও উদ্ভট এবং ভয়ানক রূপে নিজেদের শেকড় গাঁথছে বলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করলো ভারত। গত ১২ অক্টোবর, মঙ্গলবার, নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের এক উন্মুক্ত বিতর্ক সেশন চলাকালে এসব কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মুরালিধরণ।



‘শান্তি বিনির্মাণ এবং শান্তি-বৈচিত্র্য, দেশ গঠনে শান্তির সন্ধান’ -শীর্ষক এই আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে মুরালিধরণ বলেন, “এ ধরণের ফোবিয়ার (ধর্মীয়) সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকা কিংবা দেখেও না দেখার ভান করা নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল।”



প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি, ধর্মীয় ফোবিয়া নিয়ে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ দিনকে দিন ভীতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এটি মোটেও শুভ কোনো লক্ষণ নয়। আমরা একদিকে যেমন তীব্রভাবে ইহুদি বিরোধীতা, ইসলামোফোবিয়া এবং খ্রিস্টানফোবিয়ার নিন্দা জানাই, অন্যদিকে হিন্দু বিরোধী, বৌদ্ধবিরোধী এবং শিখ বিরোধী সকল ফোবিয়ার উত্থানে প্রতিবাদ জানাই। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সকল ধরণের ধর্মীয় ফোবিয়া আরও উদ্ভট এবং ভয়ানক রূপে নিজেদের শেকড় গাঁথছে।”



মোদী মন্ত্রীসভার এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী আরও বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমরা আমাদের ভূ-রাজনৈতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন অঞ্চলেই মন্দির ধ্বংস, মূর্তি ধ্বংস, গুরুদুয়ারা প্রাঙ্গনের মর্যাদা লঙ্ঘন, শিখ তীর্থযাত্রীদের গণহত্যা, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীকী স্থান ধ্বংস হতে দেখেছি। কিন্তু বেশিরভাগ সদস্যই এসব স্বীকার করছেন না। এই অত্যাচারের কথা তুলে ধরতে আমাদের অক্ষমতা সার্বিকভাবে এসব অপশক্তিকে উৎসাহ জোগায় নতুন উদ্যমে অন্যায় করার।”



এসময়, বিশ্বের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষায় এবং সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সার্বিক ঐক্য এবং স্পষ্ট ভূমিকা নেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান মুরালিধরণ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আফ্রিকায় সন্ত্রাসের ক্রমবর্ধমান বিস্তার একটি ভীষণ উদ্বেগের বিষয়। তবে তারচেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় এই যে, আমাদের পৃথিবীরই কিছু রাষ্ট্র এসব দেশকে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের সহায়তা করছে তারা।”



এক পর্যায়ে জাতিসংঘের গ্লোবাল কাউন্টার টেরোরিজম স্ট্র্যাটেজি নিয়েও কথা বলেন তিনি। মুরালি বলেন, “এই স্ট্র্যাটেজির আওতায় বিশ্বের কোনো প্রান্তেই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা যাবেনা। কোনো রাষ্ট্রই এ ধরণের কর্মকান্ডে মদদ দেয়ার জন্য কোনো ধরণের অজুহাত দিতে পারবেনা। তাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে হবে।”



ইতোপূর্বে, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের গ্রহণ করা নানান পদক্ষেপের বিষয়ে সবাইকে অবহিত করেন মন্ত্রী। এছাড়া, শান্তি রক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য ভারতকে রোল মডেল হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।



নিজ বক্তব্য প্রদানকালে, সন্ত্রাসবাদ ঠেকানোর জন্য একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ভিত্তিক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২৫৯৩ এর মতো আরও আইন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে, মহামারী পরবর্তী বিশ্বকে আরও সুন্দর এবং সমৃদ্ধ করার জন্য অর্থনীতির গতি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি।



উল্লেখ্য, ২৫৯৩ নং রেজুলেশন মতে, কোন সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কিংবা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে কিংবা সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে আফগানিস্তানের ভূখন্ড ব্যবহার করতে পারবেনা।