ভারত-ইইউ সম্পর্ক প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।

ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্বিক সম্পর্কের অগ্রগতি ‘গবেষণা’ ও ‘উদ্ভাবন’ খাতে গভীর অংশীদারিত্বের মধ্যে নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় ভূমি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। গত ১৩ অক্টোবর, বুধবার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উগো আস্তুতোর নেতৃত্বে ভারতে আগত একটি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।



জিতেন্দ্র বলেন, “ভারত-ইইউ সম্পর্ক প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে।… তাই বিভিন্ন ইস্যুতে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সমূহ মোকাবেলা করতে উভয় পক্ষের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে। স্বাস্থ্য, কৃষি, জল, নবায়নযোগ্য শক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গতিশীলতা, আইসিটি, এআই, রোবটিক্স এবং পরিবেশ রক্ষার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা গভীরতর করতে হবে।”



এসময়, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি সম্প্রতি পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া, সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নে চালু হওয়া ৭ বছর মেয়াদী হরাইজন ইউরোপ (২০২১-২৭) বৈজ্ঞানিক গবেষণা উদ্যোগের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, “এই উদ্যোগে অংশ নেয়ার জন্য ভারতীয় বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থাগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো ইউরোপ।”



ভারত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আইপিআর ভাগাভাগি, যৌথ আহ্বানের সুযোগ, মডেল অনুদান চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং যৌথ মূল্যায়নের বিষয়ে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান পূর্বক আমরা কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহী।”



তাছাড়া, ইউরোপের ভারতীয় মিশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্ভাবনী কর্মসূচি সমূহে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি। জিতেন্দ্র বলেন, “ভারত বর্তমানে মিশন ইনোভেশন ২.০ এর গঠনমূলক প্রক্রিয়ার দিকে নজর দিয়েছে। শীঘ্রই অন্যান্য সম্পর্কিত ইস্যুতেও আমরা মনোনিবেশ করবো। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায়, পরিবেশ বান্ধব শক্তির উত্তরণে একটি উচ্চ স্তরের প্ল্যাটফর্ম তৈরীতে আমরা ইউরোপের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।”



উল্লেখ্য, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে ভারত এবং ইইউ এর মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্পর্কের গতি যারপরনাই উর্ধ্বমুখী। ইতোমধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া সহ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক স্তরে সম্পর্ক জোরদারে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে দু পক্ষই।



এরই সূত্র ধরে সম্প্রতি ভারতে তৈরী করোনা ভ্যাকসিনের বৈধ্যতা অনুমোদন করেছে সিংহভাগ ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত রাষ্ট্র। তাছাড়া, করোনা মহামারী চলাকালে একে অন্যের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে দেশ দুটো।