মোদী বলেন, ভারতকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও স্বনির্ভর করতে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে কোম্পানী গুলো।

প্রতিরক্ষা খাতে উন্নয়ন ও দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলো ভারত। বিজয়া দশমীর শুভ দিনেই সাতটি নতুন প্রতিরক্ষা সংস্থার উদ্বোধন করলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্বোধনকালে নতুন কোম্পানী গুলোকে জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন তিনি।



গত ১৪ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে জানানো হয়েছিলো যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাতটি নতুন প্রতিরক্ষা সংস্থার উদ্বোধন করবেন এবং সেগুলো জাতির জন্য উৎসর্গ করবেন।



ভারতের পিএমও সূত্রে জানা যায়, “দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির উপর আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির জন্য সরকার অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডকে (ওএফবি) একটি বিভাগ থেকে সাতটি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন কর্পোরেট সত্তায় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বলা বাহুল্য, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে ভারত।”



আজ দুপুর বেলা ১২ টা ১০ মিনিটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কোম্পানী গুলোর উদ্বোধন করেন মোদী। তিনি বলেন, “ভারতকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও স্বনির্ভর করতে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে কোম্পানী গুলো। দেশকে শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করবে কোম্পানীগুলো।”



প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা সাতটি নতুন প্রতিরক্ষা কোম্পানী যথাক্রমে, যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড (YIL), ইন্ডিয়া অপটেল লিমিটেড (IOL), মিউনিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেড (MIL), অ্যাডভান্স ওয়েপেন্স অ্যান্ড ইকিউপমেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড (AWE India), ট্রুপ কমফোর্ট লিমিটেড (TCL), গ্লাইডার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (GIL), আর্মন্ড ভেইকেলস নিগম ইন্ডিয়া লিমিটেড (AVANI)।



কোম্পানির এই কর্পোরেটাইজেশন স্বায়ত্তশাসন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং নতুন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং উদ্ভাবন প্রকাশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মোদী। একই সঙ্গে, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।



নতুন কোম্পানীর উদ্বোধন ইস্যুতে গতকালও একটি টুইট করেছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “আগামীকাল, ১৫ অক্টোবর, বিজয়া দশমী উপলক্ষে ০৭ টি নতুন ডিফেন্স কোম্পানী দেশের জন্যে সমর্পিত করা হবে ৷ আমরা আত্মনির্ভর ভারত গড়তে চাই ৷ এটা তারই অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা বিভাগকে আরও আধুনিক করার একটা প্রচেষ্টা।”



অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। নতুন এই কোম্পানী গুলো প্রতিরক্ষা খাতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ভারতের অর্থনীতির ইঞ্জিন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন এই কোম্পানী গুলোর পথচলায় সরকার আর্থিক এবং অ-আর্থিক সকল বিষয়েই সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।



উল্লেখ্য, পূর্বেই আত্মনির্ভর জাতি গঠনের ডাক দিয়েছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনের কাজ অব্যহত রেখেছে তাঁর সরকার। গত এক দশকে ভারতের আর্টিলারি সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হয়েছে। সেখানে পাঁচটি রাজ্যে এখন চারটি বন্দুক উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এল এন্ড টি, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস এবং ভারত ফোর্জের মতো সংস্থাগুলো পূর্ববর্তী একচেটিয়া, রাষ্ট্রীয় অর্ডন্যান্স কারখানার সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য দেশের মধ্যে বন্দুক উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করেছে।



প্রতিরক্ষা দেশীয়করণ অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর ১৫৫ মিলিমিটার হুইটজার আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। তাই সাতটি নতুন কোম্পানি দেশের প্রতিরক্ষা খাতে উন্নতি করতে ব্যাপক সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।