ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মীনাক্ষী লেখির সার্বিয়া সফরে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে ভারত-সার্বিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন – ন্যাম এর ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের এক স্মারক সভায় যোগ দিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে সার্বিয়া যান ভারতীয় পররাষ্ট্র ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মীনাক্ষী লেখি। ১০ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর অবধি অনুষ্ঠিত চারদিন ব্যাপী তাঁর এই সফরে নতুন গতি পেয়েছে ভারত-সার্বিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।



সফরের শুরুতেই ন্যাম সম্মেলনে ভাষণ প্রদানকালে বিশ্বব্যাপী এই জোটের প্রাসঙ্গিকতা, সাফল্য এবং গুরুত্ব তুলে ধরেন লেখি। পাশাপাশি এর কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি ও বহাল রাখতে সদস্য দেশগুলোর প্রতিও আহবান জানান তিনি। একই সঙ্গে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং করোনা মহামারী প্রতিরোধে এক হয়ে কাজ করার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।



এসময়, বিশ্বব্যাপী মহামারী প্রতিরোধে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরেন লেখি। মহামারী চলাকালে ভারত প্রায় ৯৩ টি দেশে ৭০ মিলিয়নের বেশি টিকার ডোজ সরবরাহ করেছে বলেও জানান তিনি।



সম্মেলনের ফাঁকে সার্বিয়ার রাষ্ট্রপতি আলেকজান্দার ভুসিচ এবং প্রধানমন্ত্রী আনা ব্র্নাবিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন লেখি। পাশাপাশি উগান্ডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল জেজে ওডোঙ্গোর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। উল্লেখ্য, আগামী ২০২৩ সালে ন্যাম এর সভাপতির দায়িত্ব নিতে চলেছে আফ্রিকান রাষ্ট্রটি।



তাছাড়া, সার্বিয়ায় অবস্থানকালে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও কৃষি, বন ও পানি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী নেবোজিয়া স্টেফানোভিচ; উপ -প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রানিস্লাভ নেদিমোভিচ; উপ -প্রধানমন্ত্রী এবং সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রী মাজা গজকোভিচ; এবং, বাণিজ্য, পর্যটন ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তাতজানা মাতিশ এর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন মীনাক্ষী লেখি।



এসব আলোচনার ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সার্বিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিনিময় করেন লেখি। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য ইস্যুতে মোদী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি।



সফরের মাঝপথেই সার্বিয়ান ফার্স্ট লেডি তামারা ভুচিচের সঙ্গে একটি যোগ ব্যায়াম ক্লাসেও যোগ দেন লেখি। পারস্পরিক স্তরে এই ঘনিষ্ঠতা নিঃসন্দেহে দু দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা এনে দিবে।



এছাড়াও, সার্বিয়া অবস্থানকালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করেন লেখি। একই সঙ্গে, সেখানে থাকা মহাত্মা গান্ধীর সম্মানে নির্মিত স্মৃতিসৌধেও শ্রদ্ধা জানান তিনি। পাশাপাশি দু দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্পর্কিত কিছু চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।



এমনিতেও সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব উন্নয়নের দিকে মনযোগ দিয়েছে ভারত ও সার্বিয়া। দু দেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য সম্পর্ক দিনকে দিন জোরদার হচ্ছে। এছাড়া করোনাকালে পরস্পরকে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে দেশ দুটো। বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোতেও একে অন্যকে সমর্থন দেয় ভারত ও সার্বিয়া।



তাই, বলাই যায়, নিঃসন্দেহে মীনাক্ষী লেখির এবারের সফর ভারত ও সার্বিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার করেছে।