২০২২ সালে ভারত-আসিয়ানের অংশীদারিত্বের ৩০ বছর পূর্ণ হবে।

ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট নীতি ও ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশনে আসিয়ানের একতা ও কেন্দ্রীয়তা ভারতের অগ্রাধিকার। ২৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, ব্রুনাই এর রাজা, আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়ার আমন্ত্রণে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ১৮-তম আসিয়ান-ভারত শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মোদী বলেন, “আসিয়ানের একতা, কেন্দ্রীয়তা ভারতের জন্য সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ। বহু বছর ধরে আসিয়ান-ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান। ভারত ও আসিয়ানের মধ্যে হাজার বছর ধরে প্রাণবন্ত সম্পর্ক রয়েছে, ইতিহাস তার সাক্ষী। আমাদের মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, ভাষা, গ্রন্থ, স্থাপত্য, সংস্কৃতিতে সেই ঝলক দেখা যায়। আর সেই কারণেই আসিয়ান-এর ঐক্য এবং কেন্দ্রীয়তা সর্বদা ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।”

আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “২০২২ সালে আমাদের অংশীদারিত্বের ৩০ বছর পূর্ণ হবে। ভারতও স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ করবে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ‘আসিয়ান-ভারত বন্ধুত্ব বছর’ হিসেবে উদযাপন করব।”

এসময়, ভারতের নেয়া ইন্দো-প্যাসিফিক ওশান ইনিশিয়েটিভ এর ব্যাপারেও বিস্তারিত কথা বলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি অত্র অঞ্চলের সকলের জন্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি, বিশেষ করে সমুদ্র নিরাপত্তা নীতির জন্যে তাঁর সরকারের গ্রহণ করা ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

উক্ত অনুষ্ঠানে আসিয়ান ভূক্ত সকল রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাকালে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি এবং সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর করা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যকে স্বাগত জানান অংশগ্রহণকারী নেতাগণ।

আলোচনার এক পর্যায়ে করোনা-পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে মোদী বলেন, “কোভিডের জন্য আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সমগ্র বিশ্ব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছে। গোটা পরিস্থিতি ভারত-আসিয়ান বন্ধুত্বের পরীক্ষা নিয়েছে। এমন সময়ে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সহানুভূতি ভবিষ্যতে আমাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমাদের জনগণের মধ্যে শক্তিশালী ভিত্তি গড়বে।”

এসময়, আসিয়ান ভূক্ত দেশগুলো তথা বিশ্বজুড়ে মহামারী প্রতিরোধে ভারত কর্তৃক নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রচেষ্টার কথা সকলের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

এছাড়া, ভারত ও আসিয়ানের মধ্যে ভৌত, ডিজিটাল, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত সকল খাতে সংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন বৈঠকে অংশ নেয়া নেতৃবৃন্দ। মহামারী পরবর্তী অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে ভারত এবং আসিয়ানের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পুনর্মূল্যায়নের বিষয়েও একমত পোষণ করেন তাঁরা। পাশাপাশি আসিয়ান প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানের প্রশংসা করে বক্তব্য দেন আসিয়ান নেতৃত্ব।

উক্ত আলোচনায় দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা প্রশমন, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুও অন্তর্ভূক্ত ছিলো। আওতাভূক্ত সকল এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা, নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে ঐক্যমত্য পোষণ করেন নেতৃবৃন্দ।

আলোচনার এক পর্যায়ে আসিয়ানের বর্তমান বিদায়ী সভাপতি ও আসন্ন সভার সভাপতিকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান মোদী। উল্লেখ্য, আসিয়ানের বর্তমান সভাপতি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছে ব্রুনাই। সংগঠনটির পরবর্তী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছে কম্বোডিয়া।