২০১৮ সালের অক্টোবরে জাহাজ নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে ভারত ও রাশিয়া

অবশেষে চালু হলো ভারতীয় নৌবাহিনীর সপ্তম ফ্রিগেট ‘তুশিল’। গত ২৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদের ইয়ান্টার শিপইয়ার্ডে P1135.6 শ্রেণীর ফ্রিগেটটি চালু করা হয়। সদ্য চালু হওয়া তালওয়ার ক্লাস স্টিলথ ফ্রিগেটটি ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে জাহাজ নির্মাণ চুক্তি অনুসারে নির্মিত।

২০১৮ সালের অক্টোবরে জাহাজ নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে ভারত ও রাশিয়া। এর আওতায় চারটি ফ্রিগেট তৈরী করছে ভারত ও রাশিয়া, যার মধ্যে দুটো রাশিয়াতে এবং বাকি দুটো ভারতে নির্মাণের কথা রয়েছে। ভারতে জাহাজটি নির্মাণ করবে মেসার্স গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত ডি বালা ভেঙ্কটেশ ভার্মা, রাশিয়ান ফেডারেশনের সিনিয়র গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাহাজটি চালু করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে জাহাজটি নির্মাণকালীন সময়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন কালিনিনগ্রাদের ইয়ান্টার শিপইয়ার্ডের মহাপরিচালক ইলিয়া সামারিন। মহামারীর প্রভাব এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও জাহাজটি সফলভাবে নির্মাণ এবং চালু করতে পারায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্রিগেটটির নির্মাণ সম্পন্ন করায় শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ভারত সরকার। অনুষ্ঠানে ভারত ও রুশ মিত্রতার ইতিহাস তুলে ধরেন সেখানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ভার্মা।

প্রসঙ্গত, তুশিল শব্দটি একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ রক্ষাকারী ঢাল। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “জাহাজ গুলো ভারতীয় নৌবাহিনীর সব ধরণের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। নির্দিষ্টভাবে এই উপযোগী করেই জাহাজ গুলো বানানো হচ্ছে। নৌ যুদ্ধে সর্বাবস্থায় যেনো এগুলো ব্যবহার করা যায়, সে মোতাবেক জাহাজগুলো বানানোর কাজ চলছে।”

অত্যাধুনিক এই জাহাজ গুলো ভারতীয় এবং রুশ অস্ত্র, সারফেস টু সারফেস মিসাইল, সারফেস সার্ভিল্যান্স রাডার, কমিউনিকেশন স্যুট, অত্যাধুনিক সেন্সর, লিটোরাল এবং ব্লু জলে কাজ করার সক্ষমতা সহ নানা গুণে গুণান্বিত বলে জানা গিয়েছে। তাছাড়া, জাহাজগুলো কম রাডার এবং জলের আন্ডার নয়েজ সিগনেচারের ক্ষেত্রে 'স্টিলথ প্রযুক্তি' বৈশিষ্ট্যযুক্ত।