জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আফ্রিকান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহবান জানান জয়শঙ্কর।

আফ্রিকায় সন্ত্রাসবাদের বিস্তার অত্যন্ত গুরুতর এবং গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সাহেল, সোমালিয়া এবং মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকায় সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ও সাম্প্রতিক মোকাবেলা করা চ্যালেঞ্জ সমূহ থেকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে অভিমত দেন তিনি।

গত ২৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার বিষয়ে আয়োজিত উন্মুক্ত বিতর্ক আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন জয়শঙ্কর।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আফ্রিকায় সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে বিশ্ব সম্প্রদায় এবং নিরাপত্তা পরিষদের আরও শক্তিশালী সমর্থন প্রয়োজন। AMISOM, G-5 সাহেল জয়েন্ট ফোর্স এবং বহুজাতিক জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স (MNJTF) এর মতো জাতিসংঘ কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক ভাবে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে হবে।”

মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা আফ্রিকায় সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করার জন্যে টেকসই অর্থায়ন সহ সম্ভব সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে মহাসচিবের আহবানকে সমর্থন করি। ভারত নিজেদের অভিজ্ঞতার কারণে উপলব্ধি করে আফ্রিকায় সঙ্ঘাতের মূল কারণ তাঁদের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের মধ্যে নিহিত রয়েছে।”

এসময়, আফ্রিকায় সন্ত্রাসবাদ বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আফ্রিকান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহবান জানান জয়শঙ্কর।

আঞ্চলিক বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক বিধান প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিৎ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের দ্বারা গৃহীত আঞ্চলিক পদ্ধতির প্রতি সম্মান জানানো। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংস্থাসমূহের সঙ্গে একত্রে কাজ করা উচিৎ জাতিসংঘের।”

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক তাঁর বক্তব্যে আরও যুক্ত করেন, “জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং বিশেষ রাজনৈতিক মিশন সমূহে স্বীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আফ্রিকার শান্তিরক্ষা প্রোগ্রামে আমাদের অভিজ্ঞতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, মিশন গুলো প্রায়শই বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নে গড়িমসি করে।”

শান্তিরক্ষা মিশন সমূহের একটি পরিস্কার এবং সুচিন্তিত প্রস্থান কৌশল থাকা উচিৎ বলেও যোগ করেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি, জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যকার পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বিগত কিছু বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মেনে নিলেও যৌথ শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টা এখনও অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া, নিরাপত্তা পরিষদ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সমন্বয়ে যৌথভাবে গঠিত পিস এন্ড সিকিউরিটি কাউন্সিল কর্তৃক বিদ্যমান সকল সমস্যা চিহ্নিত করণ পূর্বক সমাধান করতে, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পুনরায় শক্তিশালী করতে এবং প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধনের আর্জি জানান জয়শঙ্কর।

এক্ষেত্রে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান তিন আফ্রিকান সদস্য রাষ্ট্রকে (যথাক্রমে, কেনিয়া, নাইজার এবং তিউনিশিয়া, যারা এ৩ নামে ব্যাপক পরিচিত) ব্যাপক ভূমিকা রাখার আহবান জানান তিনি।

একই সঙ্গে, আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক এবং অনন্য সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান জয়শঙ্কর। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কর্তৃক আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে দশটি গাইডিং নীতি ঘোষণা করা হয়েছিলো বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

তাছাড়া, ভারত সর্বদা আফ্রিকান বন্ধু রাষ্ট্রসমূহকে যেকোনো প্রকার উন্নয়ন চুক্তিতে খুবই অল্প সুদ এবং কোনো ধরণের ভনিতা ছাড়াই ঋণ সহায়তা প্রদান করে আসছে বলেও স্মরণ করেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি, আফ্রিকার প্রায় ৪১ টি দেশে ভারতের সরাসরি অর্থায়নে ১৮৪ টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে বা হয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর।

এসময়, ভারতের সঙ্গে আফ্রিকানদের শিক্ষাব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উন্নতি, স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা এবং ব্যবসা বাণিজ্য সহ নানা বিষয়ে কথা বলেন জয়শঙ্কর।