উভয় প্রধানমন্ত্রীই স্বীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য শক্তির ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন

পাঁচ দিনের বিদেশ সফরে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারত-ইতালি যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছ।



পাশাপাশি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ইতোমধ্যে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন দুই নেতা। এসময়, ভারত ও ইতালির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উৎকর্ষ সাধনে ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিলো, তার অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, গৃহীত এই পরিকল্পনা ২০২০-২৪ এর মধ্যে কার্যকর হবে।



জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশনকে ত্বরান্বিত করতে ক্রস-কাটিং ইস্যুসহ রোমে জি ২০ শীর্ষ সম্মেলন ও গ্লাসগোতে কোপ-২৬ ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন মোদি ও দ্রাঘি। এছাড়াও, ২০২১ সালের ৮মে পোর্টাতে অনুষ্ঠিত ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতাদের বৈঠকের কথা স্মরণ করেন তাঁরা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় দেশগুলো ও ভারত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীব বৈচিত্রের ক্ষতি, দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য জরুরি পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।



বহুমুখী ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন মোদী ও দ্রাঘি। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বিশেষত খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ, টেক্সটাইল, স্বয়মচালিত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বাড়ানোর কথা বলেছে।



ভারত ও ইতালি একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে পুনর্নবীকরণযোগ্য ও পরিচ্ছন শক্তি নিয়ে কাজের ওপর জোর দিয়েছে। এই বিষয় দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করবে বলেও বলা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে শক্তি হস্তান্তর ও নির্দিষ্ট মাত্রায় গ্রিন করিডোর প্রকল্প নির্মাণ, স্মার্ট গ্রিড, শক্তির অংশীদারিত্ব অণ্বেষণে কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথা ঘোষণা করেছে। ভারত-ইতালি টেক্সটাইল সহযোগিতা সংক্রান্ত এই চুক্তিতেও সই করেছে।



নবায়নযোগ্য শক্তির মধ্যে রয়েছে উদ্ভাবনী নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি, যেমন-আফসোর উইন্ড পাওয়ার, সবুজ হাইড্রোজেনের মত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। শক্তি দক্ষতার প্রচার স্মার্ট গ্রিড ও স্টোরেজ যুক্ত প্রযুক্তির বিকাশ, বিদ্যুতের বাজারের আধুনিকীকরণ। উপরন্তু উভয়ই দেশই তাদের স্বীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য শক্তি বাড়াতে পদক্ষেপ করার বিষয় একমত হয়েছে। একটি কার্যকর পরিচ্ছন্ন পরিবর্তনের জন্য একটি মূল সম্পদ হিসেবে যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, জিডিপি বৃদ্ধি, শক্তি নির্মূল করার সময় সর্বজনীন শক্তির অ্যাক্সেস শক্তিশালী করে।



দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫০ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তি মোতায়েন করার যে সংকল্প ভারত নিয়েছে, তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সৌরজোটের জন্য ইতালির তাৎক্ষণিক অনুমোদন ও সক্রিয় সমর্থনের প্রশংসা করেছে। শক্তি পরিবর্তেনের ক্ষেত্র দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চালু করতে সম্মত রয়েছে।



দুই দেশ যৌথ পদক্ষেপ-



৩০ অক্টোবর ২০১৭, দিল্লিতে স্বাক্ষরিত শক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর কাজ কর, যেমন স্মার্ট সিটি, গতিশীলতা, স্মার্ট গ্রিড, বিদ্যুৎ বিতরণ, স্টোরেজ সমাধান, গ্যাস পরিবহন, ও সেতুর জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রচার বাড়ানো। সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ শক্তির ব্যবহার।



ভারতে সবুজ হাইড্রোজেন, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির উন্নয়ন ও স্থাপনায় সাহায্য করার জন্য একটি আলোচনা শুরু।



২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫০ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদন সংহত করার জন্য ভারতের লক্ষ্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে একটি বড় আকারের সবুজ করিডোর প্রকল্পকে স্থাপন করার জন্য একসঙ্গে কাজ করবে।



ইতালি ও ভারতীয় কোম্পানীগুলোকে প্রাকৃতিক গ্যাস সেক্টর, ডিকার্বনাইজেশনের জন্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, স্মার্ট সিটি ও অন্যান্য নির্দিষ্ট ডোমেনে যৌথ প্রকল্পগুলির বিকাশ করতে উৎসাহিত করবে।



শক্তি পরিবর্তন সম্পর্কিত বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে ভারত ও ইতালি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ করবে।



বিশেষ করে নীতি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ক্ষেত্রে দরকারি তথ্য ও অভিজ্ঞতা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেবে। যার মধ্যে ক্লিনার ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর জ্বালানি প্রযুক্তি রূপান্তর সহজতর করার সম্ভাব্য উপায়, দীর্ঘমেয়াদী গ্রিড পরিকল্পনা ও পুনর্নবীকরণযোগ্য ও দক্ষতার ব্যবস্থার জন্য উদ্দীপনামূলক স্কিম রয়েছে। পরিচ্ছন্ন শক্তির জন্য আর্থিক সাহায্যও জোর দেওয়া হয়েছে।