প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশীয়ভাবে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

মুম্বাইয়ের মাজগাঁও ডকস লিমিটেড (এমডিএল) -এ নির্মিত ১৫বি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের প্রথম চালান হাতে পেয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ভয়াবহ এই গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার নৌবাহিনীর কাছে পৌছে দেয়া হয়েছে বলে টুইটবার্তায় জানিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। এর আগে ২০১১ সালে এরকম চারটি জাহাজ নির্মাণের জন্য চুক্তি করা হয়েছিলো বলেও জানিয়েছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশীয়ভাবে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ধরণের প্রকল্প স্বনির্ভর ভারত গড়তে সরকারের স্বদিচ্ছার প্রতিফলন বলেই মনে করছে বোদ্ধামহল।

ভিন্ন এক টুইটবার্তায় ভারতীয় নৌবাহিনী জানায়, “ডেস্ট্রয়ারটি যুক্ত হবার ফলে ভারতীয় নেভির লড়াইয়ের প্রস্তুতি তো বাড়বেই, বরং আত্মনির্ভর ভারত গড়ার দিকে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।”

ভারতীয় নৌবাহিনীর আভ্যন্তরীণ সংস্থা ‘ডিরেক্টরেট অফ নেভাল ডিজাইন’ দ্বারা ডিজাইন করা এবং মেসার্স মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড কর্তৃক নির্মিত চারটি জাহাজের নামকরণ করা হয়েছে দেশের চারটি বড় শহরের নামানুসারে। সেগুলো যথাক্রমে, বিশাখাপত্তনম, মুরমুগাও, ইম্ফল এবং সুরাত। এর মাঝে ‘বিশাখাপত্তনম’ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হলো।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘বিশাখাপত্তনম’ প্রকল্পটি গত দশকে চালু করা কলকাতা ক্লাসের ডেস্ট্রয়ারের ফলো-অন। ১৬৩ মিটার দীর্ঘ এই যুদ্ধজাহাজের পুরো লোড ডিসপ্লেসমেন্ট ৭৪০০ টন এবং সর্বোচ্চ গতি ৩০ নট।

উল্লেখ্য, পূর্বেই আত্মনির্ভর জাতি গঠনের ডাক দিয়েছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনের কাজ অব্যহত রেখেছে তাঁর সরকার।

গত এক দশকে ভারতের আর্টিলারি সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হয়েছে। পাঁচটি রাজ্যে এখন চারটি বন্দুক উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এল এন্ড টি, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস এবং ভারত ফোর্জের মতো সংস্থাগুলো পূর্ববর্তী একচেটিয়া, রাষ্ট্রীয় অর্ডন্যান্স কারখানার সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য দেশের মধ্যে বন্দুক উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

প্রতিরক্ষা দেশীয়করণ অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর ১৫৫ মিলিমিটার হুইটজার আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।

তাই পি-১৫বি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের যুক্ত হওয়ায় ভারতীয় নৌবাহিনীর কলেবর বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।