২০২০ সালে ভারত বিশ্বের ৭ম বৃহত্তম পরিষেবা রপ্তানীকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে পরিষেবা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্জন করবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গয়াল। ০৯ নভেম্বর, মঙ্গলবার, নয়াদিল্লিতে ‘সার্ভিসেস এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল- গ্লোবাল সার্ভিসেস কনক্লেভ ২০২১’ –এ বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মোদি মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য বলেন, “পরিষেবা রপ্তানী ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে যা ভারতের মোট রপ্তানীতে প্রায় ৪০% অবদান রাখে।”

গয়াল আরও বলেন, “২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের পরিষেবা বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা সবচেয়ে বৃহৎ এফডিআই প্রাপক। ২০২০ সালে ভারত বিশ্বের ৭ম বৃহত্তম পরিষেবা রপ্তানীকারক দেশে পরিণত হয়েছে। চলতি বছর অক্টোবরে সার্ভিসেস পিএমআই এক দশকের সর্বোচ্চ ৫৮.৪-এ পৌঁছেছে।”

ভারতের বিশ্বের শীর্ষ পরিষেবা রপ্তানিকারক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিমত দিয়ে গয়াল বলেন, “একটি সমাবেশ অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর আমাদের এই সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলেছে। দক্ষতা, স্টার্টআপ এবং আইটি সলিউশন দ্বারা চালিত ভারতীয় পরিষেবার সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং সর্বজনীন আকর্ষণের যুগল শক্তি রয়েছে।”

মহামারীর পরও পরিষেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকার বিষয়ে গয়াল বলেন, “মহামারী চলাকালীন বাড়ি থেকে কাজে সক্ষম করার জন্য ভারতের প্রতিশ্রুতি প্রশংসাজনক। অন্যান্য দেশে পরিষেবা বাণিজ্য হতাশাগ্রস্ত থাকলেও ভারতের পরিষেবা খাত প্রচুর স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে।”

তাছাড়া, পর্যটন-ভ্রমণের মতো খাতগুলো, যা কোভিড-১৯ এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুনরুজ্জীবনের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “১২ টি সেক্টরকে চ্যাম্পিয়ন সার্ভিস সেক্টর স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে এবং যোগ করেছেন যে বিআইএস পরিষেবা সেক্টর বিভাগীয় কাউন্সিল গঠন করেছে।”

এসময়, এআই, বিগ ডেটা, রোবোটিক্স ইত্যাদির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নে ভারত সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। গয়াল উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের পরিষেবার এক্সপোয়েট গোডাই মূলত আইটির সমন্বয়ে গঠিত। তিনি অন্যান্য সম্ভাবনাময় প্রবৃদ্ধি খাতে ফোকাস করার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন।