আফগান ইস্যুতে আয়োজিত নিরাপত্তা সংলাপে ভারত ছাড়াও রাশিয়া, ইরান সহ আরও সাতটি দেশ অংশগ্রহণ করেছে।

আঞ্চলিক ও প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ, বৃহত্তর সহযোগিতা, মিথস্ক্রিয়া এবং সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। পাশাপাশি ভারত আফগানিস্তানের সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১০ নভেম্বর, বুধবার, আফগান ইস্যুতে দিল্লীতে আয়োজিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

নিজ বক্তব্যে অজিত দোভাল বলেন, “আমরা আফগান ইস্যুতে আলোচনা করতে বৈঠকে বসেছি। আমরা সকলেই আফগানিস্তানের সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছি। সেখানকার যাবতীয় পরিস্থিতি শুধু দেশটির জনগণের উপরই নয়, এর প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের উপরই প্রভাব ফেলছে।”

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, “এর আগেও আমরা দুবার বৈঠকে বসেছিলাম। সেসময় ইরানে বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। মধ্য এশিয়ার সমস্ত দেশ এবং রাশিয়ার সমন্বয়ে বৈঠকটি আয়োজন করতে পেরে ভারত গর্বিত এবং আপনাদের সকলের অংশগ্রহণের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

মূলত, তালেবান ক্ষমতা দখলের পর সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদ ঠেকাতে আফগান ইস্যুতে এই প্রথম উচ্চ স্তরের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপ আয়োজন করছে ভারত। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

এবারের নিরাপত্তা সংলাপে ভারত ছাড়াও রাশিয়া, ইরান সহ আরও সাতটি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। দেশ গুলো যথাক্রমে, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তান।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ইরানে আফগান ইস্যুতে নিরাপত্তা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। গতবছর করোনার কারণে সংলাপটি বাতিল হয়ে যায়।

জানা গিয়েছে, চীন এবং পাকিস্তানকেও সংলাপে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। তবে পাকিস্তান এবং চীন সংলাপটিতে অংশগ্রহণ করবেনা বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলো।

পাকিস্তানের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টিকে ইতোমধ্যে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ভারতীয় বোদ্ধামহল। তবে বিষয়টি যে আফগানিস্তানে তালেবান শাসনকে বৈধতা দেয়ার প্রচেষ্টা, সে বিষয়ে ঐক্যমত্য প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ।

তবে, অংশগ্রহণ করা সকল রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সংলাপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট মহল।

প্রসঙ্গত, ঐতিহ্যগতভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই আফগানিস্তানের সকল মানবিক ও সামাজিক বিপর্যয় রুখতে শুরু থেকেই সচেষ্ট ভূমিকা পালন করছে ভারত।