সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন প্রতিরোধে একনিষ্ঠভাবে কাজ করছে ভারত।

জাতিসংঘের নিকট সন্ত্রাসীদের আশ্রয় এবং অর্থায়নকারী দেশগুলোকে জবাবদিহি করার অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। গত ১৮ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ রুখতে ভারতের অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেন সেখানে নিযুক্ত ভারতীয় স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব রাজেশ পরিহার।

ভারতীয় প্রতিনিধি মন্তব্য করেন, “সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসমূহের ক্রমাগত সম্প্রসারণ গোটা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্যেই এক অগ্নিপরীক্ষা। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন (সিএফটি) প্রতিরোধে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৪৬২ সত্ত্বেও, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং অন্য কিছু সামান্য বিষয়ে সমন্বয়ের অভাবে সন্ত্রাসবাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

জাতিসংঘের কাউন্টার-টেরোরিজম কমিটি এবং আইএসআইএল (দা'এশ) ও আল-কায়েদা নিষেধাজ্ঞা কমিটির যৌথ বিশেষ উদ্যোগে 'সন্ত্রাস-অর্থায়নের হুমকি' -শীর্ষক আলোচনায় উক্ত আলোচনা করেন রাজেশ পরিহার। তিনি আরও বলেন, “ভারত ‘কাউন্টার ফাইন্যান্সিং অফ টেরোরিজম’ এর প্রতি নিজস্ব প্রতিশ্রুতিতে অটল এবং গত কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধের জন্য সম্ভব সবকিছু করছে।”

ভারতীয় ফার্স্ট সেক্রেটারি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ গৃহীত পদক্ষেপ সমূহকে আমরা মান্যতা দিই। তথাপি এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন ও শক্তিশালী করতে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় এবং অর্থায়নকারী দেশগুলোকে জবাবদিহিতা করা যেতে পারে।”

এসময়, আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ, পাচার, ব্লকচেন প্রযুক্তির অপব্যবহার, ভার্চুয়াল/ক্রিপ্টো মুদ্রা, ডিজিটাল ক্রাউড সোর্সিং, প্রিপেইড ফোন কার্ড সহ ইত্যাদি নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদীদের নতুন ভাবে আর্থিক জোগান দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রাজেশ। মহামারী চলাকালে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার প্রসার এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে অভিমত দেন তিনি।

বৈঠককালে, গত আগস্ট মাসে গৃহীত ২৫৯৩ নং রেজুলেশন নিয়েও বৈঠকে বিস্তর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ২৫৯৩ নং রেজুলেশন মতে, কোনো সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কিংবা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে কিংবা সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে আফগানিস্তানের ভূখন্ড ব্যবহার করতে পারবেনা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক