বিভিন্ন বহুপাক্ষিক বাণিজ্য সংস্থায় সহযোগিতা এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততার উপর জোর দিয়েছে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য নীতি ফোরামের অধীনে শুল্ক সহ বাজার অ্যাক্সেস সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতে গত সোমবার (২২ নভেম্বর) ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ক্যাথরিন টাই। সর্বশেষ ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে উক্ত ফোরামটির নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।

ক্যাথরিন টাইয়ের দুদিনের সফরের শুরুতেই বাজার অ্যাক্সেস এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের মতো সমস্যাগুলোর মতো বিষয়ে মতপার্থক্য সমাধানের উপায় খুঁজতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। সফরের প্রথম দিনে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন টাই।

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেণ্ট জো বাইডেনের প্রশাসন শুরু থেকেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক অধিকতর মসৃণ করার আগ্রহ দেখিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় পুনরায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য নীতি ফোরাম।

উল্লেখ্য, ভারতীয় পণ্য রপ্তানীর সবচেয়ে বড় গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তবে সম্প্রতি চীনও প্রতিযোগিতার দৌড়ে এগিয়ে এসেছে। ভারত যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেছে, চীন ভারত থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি পেয়েছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের এপ্রিলে-আগস্ট মাস সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার ছিল, তবে দ্রুতই চীন জায়গাটি দখলে নেয়। তাছাড়া, ২০২০-২১ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চীন ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

এসবের প্রেক্ষিতেই ভারতের প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। শুরু থেকেই উচ্চ শুল্ক সহ ভারতের বাজার বাধার বিষয়টি উত্থাপন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা অ-স্বচ্ছ এবং অপ্রত্যাশিত বলে অভিযোগ দেশটির। একই অভিযোগ ভারত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও নিক্ষেপ করছে।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ কমার্সের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এজেন্সি অনুসারে, মার্কিন রপ্তানিকারক এবং বিনিয়োগকারীরা ভারতে অ-স্বচ্ছ এবং প্রায়শই অপ্রত্যাশিত নিয়ন্ত্রক এবং শুল্ক ব্যবস্থার সম্মুখীন হয়। এর কারণ হিসেবে তাঁরা চিহ্নিত করেছেন, কিছু পণ্য ও পরিষেবার ভারতীয় বাজারে সীমিত অ্যাক্সেস রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের দেওয়া একটি নৈশভোজে অংশ নিয়ে টাই ভারতীয় কর্মকর্তাদের বলেন, “এগুলি এমন বিষয় যেখানে আমরা অগ্রগতি করতে চাই এবং সফরের সময় এগুলো আমার তালিকার শীর্ষে থাকবে। ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কৃষির মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রবৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।”

গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ওয়াশিংটন সফরে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য ফোরামের নীতি নির্ধারণী সভা আয়োজনের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। এরপর টাই এর এই সফরের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বোদ্ধামহল।

নৈশভোজ শেষে ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, “স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বাণিজ্যকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের নেতারা আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক অংশীদারিত্বও বাড়াচ্ছে বাইডেন সরকার। উভয় দেশই ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনা প্রভাবের বিরুদ্ধে পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়াসে তথাকথিত কোয়াড গ্রুপে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে যোগ দিয়েছে।

সরকারী সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স আগে জানিয়েছে, বাইডেনের অনুরোধের প্রতিক্রিয়ায় ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির সাথে একযোগে অপরিশোধিত তেলের জাতীয় মজুদ মুক্তির উপায় নিয়ে কাজ করছে।

আলোচনার সাথে পরিচিত একটি সূত্র অনুসারে মঙ্গলবারের প্রথম দিকে একটি ঘোষণা আসতে পারে। হোয়াইট হাউস এবং ইউএস এনার্জি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা বলেছেন যে রিলিজের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

কর্মকর্তারা সম্মত হয়েছেন যেনো ফোরামের বিদ্যমান সমস্যা গুলো সমাধানের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও গভীর করতে সাহায্য করা হয়। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক