ইএএস হচ্ছে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত মতবিনিময় করার জন্যে আসিয়ান নেতৃত্বাধীন অন্যতম ফোরাম।

ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর জাতিগত সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চায়ন, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, শক্তির ব্যবহার বা হুমকি এড়ানো এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নিয়ম-ভিত্তিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ বলে দাবি করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) রিভা গাঙ্গুলী দাস।

২৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার, কলকাতার মেরিটাইম সিকিউরিটি কো-অপারেশনে আয়োজিত ৫ম পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন বা ইএএস -এ ইন্দো-প্যাসিফিক ওশান ইনিশিয়েটিভ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের ভিশনের উপর আলোচনাকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

নিজ বক্তব্যে রিভা বলেন, "এই অঞ্চলে সহযোগিতার জন্য আমাদের সাতটি মূল স্তম্ভ রয়েছে। সেগুলো যথাক্রমে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা; মেরিটাইম ইকোলজি; মেরিটাইম রিসোর্সেস; ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ও রিসোর্স শেয়ারিং; ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট; বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও একাডেমিক কোঅপারেশন; এবং ট্রেড, কানেক্টিভিটি এবং মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট।"

ইএএস-কে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক আরও বলেন, “আসিয়ানের নেতৃত্বাধীন সংস্থা হিসেবে ইএএস-কে শক্তিশালী করতে অঙ্গীকারবদ্ধ ভারত। নয়াদিল্লী গোটা অঞ্চল জুড়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।”

এসময়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিধানে জাতিসংঘে ভারতের নেতৃত্বে হওয়া আলোচনার প্রসঙ্গটিও উত্থাপন করেন রিভা গাঙ্গুলি দাস। তিনি বলেন, “প্রথমবারের মতো সামুদ্রিক নিরাপত্তা জাতিসংঘে একচেটিয়া এজেন্ডা আইটেম হিসাবে সামগ্রিকভাবে আলোচনা করা হয়েছিল। প্রদত্ত যে কোনও দেশ একাই সামুদ্রিক সুরক্ষার বিভিন্ন দিকগুলিকে মোকাবেলা করতে পারে না, এই বিষয়টিকে ইউএনএসসিতে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

উল্লেখ্য, গত আগস্টে নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতিত্বকালে ভারত একটি উচ্চ-স্তরের উন্মুক্ত বিতর্কের আয়োজন করেছিলো। সেই বিতর্কের শিরোনাম ছিলো, ‘এনহ্যান্সিং মেরিটাইম সিকিউরিটি – এ কেস ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন’, যার সভাপতিত্ব করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই।

আলোচনাকালে আইপিওআই এর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দেন রিভা। এসময় তিনি আরও বলেন, “সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চায়নের ক্ষেত্রে অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলোকে একসাথে মোকাবেলা করার জন্য ইএএস-এর মতো মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম পেয়ে আমরা খুশি। আমরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ফলাফল-ভিত্তিক সহযোগিতা ও সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন ধারণাগুলি অন্বেষণ করতে চাই।”

প্রসঙ্গত, ২৩ ও ২৪ নভেম্বর সময়কালে দুদিন ব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে কলকাতায়। গোটা অনুষ্ঠানটি ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করছে অস্ট্রেলিয়া। এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছিলো ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জানা গিয়েছে, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সরকার ছাড়াও সম্মেলনের আয়োজকদের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল মেরিটাইম ফাউন্ডেশন, আসিয়ান-ইন্ডিয়া সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিস, রিজিওনাল স্টাডিজ কলকাতা।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সরকার এবং একাডেমিয়া উভয়ের বিশেষজ্ঞেরা চারটি বিষয়ভিত্তিক সেশনের অধীনে সমুদ্র নিরাপত্তা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন, যথাঃ সামুদ্রিক নিরাপত্তা; সম্পদ এবং তথ্য শেয়ারিং; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতা; এবং মহামারী, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং ব্যবস্থাপনা।

ইএএস হচ্ছে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত মতবিনিময় করার জন্যে আসিয়ান নেতৃত্বাধীন অন্যতম ফোরাম। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক