নতুন দুইটি টিকা এবং একটি অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)।

করোনা ভাইরাসের মহামারি মোকাবিলার সংগ্রাম জোরালো করতে নতুন দুইটি টিকা এবং একটি অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের অনুমোদিত নতুন দুইটি টিকা হলো কোরবেভ্যাক্স এবং কোভোভ্যাক্স। অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ মোলনুপিরাভির কেবল জরুরি অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে বলে মঙ্গলবার সকালে এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাভিয়া।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন কোরবেভ্যাক্স ভারতের প্রথম নিজস্ব উৎপাদিত ‘আরবিডি প্রোটিন সাব-ইউনিট’ ভ্যাকসিন। হায়দ্রাবাদভিত্তিক কোম্পানি বায়োলোজিক্যাল-ই ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে। এ নিয়ে তৃতীয় ভ্যাকসিন তৈরি করলো ভারত। অন্য দুইটি ভ্যাকসিন হলো ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন এবং সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড।

ন্যানোপার্টিকেল ভ্যাকসিন কোভোভ্যাক্স তৈরি করবে পুনে ভিত্তিক কোম্পানি সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এসআইআই)। অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ মোলনুপিরাভির ভারতে উৎপাদন করবে ১৩টি কোম্পানি। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা যাবে।

নতুন অনুমোদনের ফলে ভারতে মোট আটটি কোভিড-১৯ এর টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন, জাইকোভ-ডি, স্পুটনিক ভি, মডার্না, জনসন অ্যান্ড জনসন, কোরবেভ্যাক্স এবং কোভোভ্যাক্স।

আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে স্বাস্থ্য কর্মী, ফ্রন্টলাইন কর্মী এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের বুস্টার ডোজ প্রয়োগ শুরু করবে ভারত। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা করোনার টিকা পাবেন ৩ জানুয়ারি থেকে। অতি সংক্রামক ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব জুড়ে করোনা মোকাবিলার সংগ্রাম নতুন করে শুরু হয়েছে। ভারতের দিল্লিসহ কয়েকটি রাজ্যে রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।

এদিকে, ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ৬০০ পেরিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৬৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৭ জন মহারাষ্ট্রে, ১৬৫ জন দিল্লিতে। কেরল, তেলঙ্গানা, গুজরাত এবং রাজস্থানে আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৫৭, ৫৫, ৪৯ এবং ৪৬। তামিলনাড়ু এবং‌ কর্নাটকে তা ৩৪ এবং ৩১। তাছাড়া, দেশটিতে দৈনিক কোভিড সংক্রমণ পরপর তিন দিন যাবত ছয় হাজারের ঘরেই রয়েছে।