সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের জিরো টলারেন্সের কথা পুনরায় ব্যক্ত করলো দেশটির প্রতিনিধিগণ।

দশ বছর বিরতির পর পুনরায় নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবিরোধী কমিটির সভাপতিত্ব করতে যাচ্ছে ভারত। নতুন বছরের শুরুতেই জানুয়ারী মাসে এই দায়িত্ব পালন করবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। ইতোমধ্যে এর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনীতিকবৃন্দ। তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা নির্ধারণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছে ভারত।

গত ৩০ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, কাউন্টার-টেররিজম কমিটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরেট (সিটিইডি) এর ম্যান্ডেট পুনর্নবীকরণের জন্য একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ভারত এবং প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ায় সাধুবাদ জানিয়েছে। সেসময়, জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি একটি বিবৃতিতে বলেছেন, “ভারত সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। অন্য রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গেও এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে।”

সন্ত্রাসবিরোধী কমিটির সভাপতি হিসেবে ভারত সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বহুপাক্ষিক প্রতিক্রিয়া জোরদার করার প্রয়াস চালাবে বলে এদিন জানান তিরুমূর্তি। এছাড়াও, সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী দ্ব্যর্থহীন, দৃঢ় কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। গোটা বিষয়টি ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে কেননা বর্তমান বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত সরকার অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করছে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতেই জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ২০২০-২২ সময়কালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্ল্যাটফর্মে সভাপতিত্ব করবে ভারত। সেগুলো যথাক্রমে, তালেবান নিষেধাজ্ঞা কমিটি, লিবিয়া নিষেধাজ্ঞা কমিটি এবং কাউন্টার টেররিজম কমিটি।

তাছাড়া, ২০২০ এর নভেম্বরে তিরুমূর্তি জানিয়েছিলেন, ৭৫ টিরও বেশি রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের বার্ষিক রেজুলেশনে সায় দিয়েছে এবং সর্বসম্মতভাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তা গৃহীত হয়েছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ৯/১১ হামলার পর ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০০১ সালে নিরাপত্তা পরিষদে ১৩৭৩ নং রেজুলেশন পাশ করার মাধ্যমে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও কমিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো। মূলত, বিশ্বের দেশগুলোকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা উন্নত করার কাজটি করে থাকে এই কমিটি।

সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নকে অপরাধীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে যুক্ত যেকোনো তহবিল বাজেয়াপ্ত করা, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সব ধরনের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা, সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় বানচাল করে দেয়া, সন্ত্রাসীদের ভরণপোষণ বা সমর্থনের বিধান নিষিদ্ধ করা এবং অন্যান্য সরকারের সাথে তথ্য ভাগ করে নেয়ার বিষয় গুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছে এই কমিটি। এর আগে সর্বশেষ ২০১২ সালে নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবিরোধী কমিটির সভাপতিত্ব করেছিলো ভারত। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক