চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসাবে নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে প্রস্তুত।

গত অর্থবর্ষের সঙ্কোচনের খাদ থেকে উঠে এসে গতি বাড়াচ্ছে ভারতীয় অর্থনীতি। গত ০৭ জানুয়ারী, শুক্রবার, আইএইচএস মার্কিটের রিপোর্ট বলেছে, এই গতিতে চললে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ছাপাবে জাপানকে। সে ক্ষেত্রে এশিয়ার দ্বিতীয় ও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে ভারত। জিডিপির মাপ দাঁড়াবে ৮.৪ লক্ষ কোটি ডলার। এখন যা ২.৭ লক্ষ কোটি। গত ০৯ জানুয়ারী গোটা বিষয়টির উপর একটি পূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দুবাই ভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক খালিজ টাইমস।

এই প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মহল অবশ্য মনে করাচ্ছে, কেন্দ্র একটা সময়ে ২০২২ সালের মধ্যে ভারতকে ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু তার পরেই শুরু হয় করোনা সংক্রমণ এবং লকডাউন। তার পর থেকে বিশ্ব তথা ভারতের অর্থনীতিকে উপর্যুপরি ঢেউ সামলাতে হচ্ছে। দরজায় করোনার তৃতীয় ঢেউ। ফলে আগামী ন বছরে এমন কত ধাক্কার মোকাবিলা করতে হবে তা এখনই বলা শক্ত। সে ক্ষেত্রে এখন যে হিসাবই কষা হোক না কেন, দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির অভিমুখ কোন দিকে হবে তা বলা কঠিন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি, যা আমেরিকা, চীন, জাপান, জার্মানি এবং ব্রিটেনের পরে। ২০৩০ সালে ভারতের অর্থনীতি জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইএইচএস মার্কিটের পূর্বাভাস, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বাড়বে ৮.২% হারে। যা কিনা আবার জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেকটাই কম। পরের বছর এই হার হবে ৬.৭%।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অগ্রগতির পিছনে যে সমস্ত বিষয় কাজ করবে তার প্রথম সারিতে রয়েছে এ দেশের বিশাল এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি। যাদের হাত ধরেই বেড়ে চলেছে চাহিদা ও বিক্রিবাটা। তার ফলেই ভারত হয়ে উঠেছে লগ্নির অন্যতম প্রধান গন্তব্য। আর এর সূত্র ধরেই চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসাবে নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে প্রস্তুত।