ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে অসামঞ্জস্যতা দূরীকরণে নিয়মিত বৈঠক আয়োজন করবে দিল্লী-সিউল।

আগামী ২০৩০ সালের পূর্বেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া। গত ১১ জানুয়ারী, মঙ্গলবার, ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়েও হ্যান-কু-র বৈঠকের সময় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরবর্তীতে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিবৃতিতে জানা যায়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু ইয়েও এবং ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গয়াল।

আলোচনাকালে, বিনিয়োগ সহ ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি, বাজার অ্যাক্সেসের সমস্যা এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন অশুল্ক সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করেছেন দুই নেতা। প্রসঙ্গত, ভারত-কোরিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সিউলের পক্ষে প্রবলভাবে হেলে পড়েছে। কোরিয়া সফলভাবে ভারতের সাথে তার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুফল ভোগ করছে, যেটি ২০১০ সালে কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় রপ্তানিকারকরা এটি থেকে এখনও তেমন উপকৃত হয়নি।

ভারত বিগত দুই অর্থবছরে কোরিয়া থেকে যথাক্রমে ১৫.৭ বিলিয়ন ডলার এবং ১২.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সেই দেশে তার রপ্তানি ছিল মাত্র ৪.৮ বিলিয়ন এবং ৪.৭ বিলিয়ন ডলার।

ভারত কোরিয়াতে প্রধানত অ্যালুমিনিয়াম, খনিজ জ্বালানি এবং জৈব রাসায়নিক দ্রব্য পাঠায় এবং সেখান থেকে ইস্পাত, মূলধন এবং ভোগ্যপণ্য আমদানি করে। উল্লেখযোগ্য এই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা ভারতকে এফটিএ পর্যালোচনা করার পরিকল্পনা করতে প্ররোচিত করেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

নভেম্বর ২০১৯-এ বেইজিং-প্রধান আরসিইপি বাণিজ্য আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকে ভারত "ন্যায্য" এবং "ভারসাম্যপূর্ণ" বাণিজ্য চুক্তির জন্য মূল অর্থনীতির সাথে আলোচনা ত্বরান্বিত করতে চাইছে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক