ভারত চায় চীন হট স্প্রিংসে বিচ্ছিন্নকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাক এবং ডেপসাং এবং ডেমচোকে ঘর্ষণ পয়েন্টের সমাধান করুক

দীর্ঘ বিলম্বের পর ফের একবার লাদাখ সীমান্তের বিবাদ মেটাতে আলোচনার টেবিলে বসেছিলো ভারত ও চীন। তবে সেনা পর্যায়ের ১৪তম বৈঠকেও সীমান্ত বিবাদ নিয়ে কোনও সমাধান সূত্র মিললো না। ইতিবাচক কোনও পদক্ষেপ করার বিষয়ে সম্মত হতে না পারলেও, দুই দেশই একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। লাদাখে চলমান অস্থির পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে আগামী সেনা পর্যায়ের বৈঠক দ্রুতই হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

গত ১২ জানুয়ারী, বুধবার, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন চীনা এলাকা চুশুল-মল্ডো পয়েন্টে প্রায় ১৩ ঘণ্টার এই বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে হট স্প্রিং অর্থাৎ ১৫ নং প্যাট্রলিং পয়েন্ট থেকে সেনা সরানোর উপর। যদিও ভারতীয় সেনা চেয়েছিলো যাতে চীন গোগরা-হট স্প্রিং এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে, তবে ভারতের তরফে পিএলএ-কে এই বিষয়ে রাজি করানো সম্ভব হয়নি।

তাছাড়া দৌলত বেগ ওল্ডি সেক্টরে দেপসাং বালজ, ডেমচক সেক্টরে চার্ডিং নুল্লাহ জাংশনেও চীনকে সেনা প্রত্যাহার করানোর বিষয়ে রাজি করাতে পারেনি ভারতীয় সেনা। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তে পূর্বতন অবস্থানেই দাঁড়িয়ে থাকবে দুই দেশের সেনা।

কূটনৈতিক ভাষায় বলতে গেলে এই বৈঠকের আলোচনা গঠনমূলক হলেও কোনও ইতিবাচক ফলাফল মেলেনি। তবে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর জন্য কাজ চালিয়ে যাবে দুই পক্ষই। তবে প্রকৃত পক্ষে সীমান্তে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসের স্থিতাবস্থা ফেরার কোনও ইঙ্গিত পিএলএ-র তরফে মেলেনি।

এদিকে প্যাংগং সো-এর উপর চীনা সেনার ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টিও বৈঠকে উত্থাপিত করেছিল ভারতীয় সেনা। তবে সেই বিষয়েও ভারত কোনও ইতিবাচক বার্তা শুনতে পায়নি চীনের থেকে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মে মাসে বেইজিং ১৯৯৩ এবং ১৯৯৬ সালের শান্তি আলোচনায় গৃহীত প্রস্তাবগুলো ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে ১৯৫৯ সালের বাতিল হওয়া এলএসি মানচিত্রকে গ্রহণ করে। এরপরই ফের নতুন করে সীমান্তে উত্তেজনা ও সংঘাতের আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের মে মাস থেকে টানা ২০ মাস রণংদেহী মনোভাব নিয়ে একে অপরের দিকে চোখ রাঙাচ্ছে ভারত ও চীনা সেনা।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর দু পক্ষের ত্রয়োদশ দফার বৈঠকে কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি ৷ বৈঠকের পর ভারতের তরফে জানানো হয়েছিল, আলোচনায় দু পক্ষই কোনও দিশা খুঁজে পায়নি ৷ গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়া হলেও চীন তাতে রাজি হয়নি এবং সঠিক কোনও প্রস্তাবও দিতে পারেনি ৷

এরপরে পূর্ব লাদাখের প্যাংগং লেক সংলগ্ন এলাকায় সেতু নির্মাণের জন্য চীনের বিরদ্ধে তোপ দেগেছে ভারত ৷ দিল্লি জানায়, এটি এমন একটি এলাকা যেটি প্রায় ৬০ বছর ধরে বেআইনি ভাবে চীনের দখলে রয়েছে ৷ অরুণাচলপ্রদেশের কয়েকটি জায়গার নতুন করে নামকরণ করাতেও চীনকে একহাত নিয়েছিল ভারত। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক