ডিআরডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, সমুদ্রে বা আকাশে শত্রপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ রুখে দিতে সক্ষম ব্রহ্মসের এই সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল।

ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের একটি নতুন সংস্করণের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত। প্রতিরক্ষা গবেষণায় ফের বড়সড় সাফল্য পেল ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভালপমেন্ট অর্গানাইজেশন। ডিআরডিও জানিয়েছে, ওড়িশার বালাসোর উপকূল থেকে নতুন প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সজ্জিত মিসাইলটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, সম্পূর্ণ নতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে তৈরি করা হয়েছে এই ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটিকে। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ব্রহ্মস মিসাইল তৈরি করেছে ভারত। ১৯৯৮ সালে রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়া এবং ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-র মধ্যে একটি যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয় ব্রহ্মস মিসাইল।

ব্রহ্মস হল বিশ্বের সেরা সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। ভারতের ব্রহ্মপুত্র এবং রাশিয়ার মস্কভা নদীর নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই মিসাইলটি ভূমি, জাহাজ, সাবমেরিন এবং বিমান থেকে উৎক্ষেপণ করা যেতে পারে। অর্থাৎ, প্রয়োজনে স্থল, জল ও আকাশ তিন স্থান থেকেই ক্ষেপনাস্ত্রটিকে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

ডিআরডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, সমুদ্রে বা আকাশে শত্রপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ রুখে দিতে সক্ষম ব্রহ্মসের এই সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনী উভয়েই কাজে লাগাতে পারবে মিসাইলটিকে।

চলতি মাসেই আরও একটি ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় ভারতীয় নৌবাহিনী। যেটি সমুদ্রযুদ্ধে বিশেষ ভাবে কার্যকরী। শত্রপক্ষের সাবমেরিন বা জাহাজে নির্ভুল নিশানায় আক্রমণ করতে পারদর্শী ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি। টুইট করে ডিআরডিও জানিয়েছিল, “নৌবাহিনীর জাহাজ আইআনএস বিশাখাপত্তনাম থেকে সমুদ্রযুদ্ধে উপযোগী ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপন হয়েছে।”

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ফিলিপিন্সই হতে চলেছে ব্রহ্মস ক্রুজ মিসাইল সিস্টেমের প্রথম বিদেশি ক্রেতা। শোর-বেসড অ্যান্টি-শিপ মিসাইল সিস্টেম সরবরাহ করার জন্য ফিলিপিন্সকে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস প্রাইভেট লিমিটেড। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ফিলিপিন্স। মোট ডিলের মূল্য স্থির হয়েছে ৩৭৪.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফিলিপিন্স ডিপার্টমেন্ট অফ ন্যাশনাল ডিফেন্স ইতিমধ্যেই প্রস্তাব গ্রহণের নোটিশ ব্রহ্মস আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়া সময়ের অপেক্ষা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক