উন্নত দেশগুলোর জলবায়ু অর্থায়ন ইস্যুতে তিরুমূর্তি লিখেছেন, “আমরা কেবল উদ্ভাবনী অ্যাকাউন্টিং দেখি যা নির্ভরযোগ্য কোনো অর্থায়ন নয়।”

বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ‘পর্যাপ্ত অর্থায়নের’ অভাবকে দায়ী করেছে ভারত। গত ২৩ জানুয়ারী, রবিবার, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একটি টুইট শেয়ার করে সেখানে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি লিখেছেন, “২০২০ সালের মধ্যে উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে প্রতিবছরই প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। কিন্তু ২০২২ হতে চললো! অথচ উন্নত দেশগুলো এ সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগই নেয়নি!”

বিশ্বের উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ার পেছনে এই পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য অর্থায়নের অভাবকেই দায়ী করেছেন তিরুমূর্তি। এর আগে উন্নত দেশগুলোকে সমুদয় অর্থ দ্রুত পরিশোধের জন্য তাগাদা দিয়ে টুইট করেছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব নিজেই। সেখানে গুতেরেস লিখেছিলেন, “প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার ঘোষণাটি ইতোমধ্যে সময়সীমা অতিক্রম করেছে। ২০২৩ অবধি আমরা অপেক্ষা করতে পারিনা। এবছরই তা দেয়া উচিত উন্নত দেশগুলোর।”

বিশ্ব বর্তমানে জরুরী অবস্থায় রয়েছে এবং অপেক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত সময় হাতে নেই বলেও এসময় স্মরণ করিয়ে দেন জাতিসংঘ মহাসচিব। ইতোপূর্বে, গত সপ্তাহের শুরুতে চলতি বছরে বিশ্বের জন্য পাঁচটি এলার্মিং বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন গুতেরেস।

সাধারণ পরিষদে তিনি বলেন, “আমরা একটি আশঙ্কাজনক বিশ্বের মুখোমুখি হয়েছি। যেখানে পাঁচটি আশঙ্কা বিরাজমান। সেগুলো যথাক্রমে, ক্রমবর্ধমান করোনা প্রাদুর্ভাব, নৈতিকভাবে দেউলিয়া বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো, জলবায়ু সংকট, সাইবার সংকট, শান্তি ও নিরাপত্তার দিক থেকে অধঃপতন। এর মোকাবেলা করতে পূর্ণ সংহতি প্রয়োজন।”

এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তন ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে বিশ্বের সরকারগুলোকে জরুরি মোড চালুর পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি চলতি শতাব্দীর মধ্যে কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমানো এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির উপদেশও দেন তিনি। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক