প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক অন্যান্য খাতেও ভারতের সাথে সম্পর্ক বাঁড়াতে চায় যুক্তরাজ্য।

ভারতে সফররত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুক্রবারের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খাত, যথাক্রমে, স্থল, সমুদ্র, বায়ু, মহাকাশ এবং সাইবারে পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্রিটেন ভারতকে নিজস্ব ফাইটার জেট তৈরি করতে এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দ্রুত পাঠানোর জন্য একটি লাইসেন্স দিতে প্রস্তুত। এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশন।

এর আগে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে সফরের প্রথমদিনেই ব্রিটিশ-ভারত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর।

ব্রিটিশ দূতাবাসের পক্ষে জানানো হয়, ব্রিটিশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্ক ব্যাপক জোরদার করার বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হবে মোদী-জনসন বৈঠকে। বর্তমানে, রাশিয়ার থেকে অর্ধেকেরও বেশি সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয় করছে ভারত। এমতাবস্থায়, নয়াদিল্লীর গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হতে চায় যুক্তরাজ্য।

এর মধ্যে ব্রিটিশ বিনিয়োগে ভারতে ডিজাইন করা ও উত্পাদিত সম্ভাব্য নতুন ফাইটার জেট নিয়েও বিশদ আলোচনা হবে। যুক্তরাজ্য ভারত মহাসাগরে হুমকি শনাক্ত করতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে নতুন প্রযুক্তির জন্য ভারতের প্রয়োজনীয়তাকেও সমর্থন করার চেষ্টা করবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

আগামী দশকে ভারতে বৃহত্তর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য যুক্তরাজ্য ভারতকে একটি ওপেন জেনারেল এক্সপোর্ট লাইসেন্স (ওজিইএল) ইস্যু করবে, যা দু দেশের সম্পর্কে আমলাতন্ত্রকে কমিয়ে দেবে এবং প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণের জন্য ডেলিভারির সময় কমিয়ে দেবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এটি ভারতের প্রথম ওজিইএল।

এদিকে, গতকাল ভারতে নেমেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছিলেন, “ভারতের সাথে যুক্তরাজ্যের অংশীদারিত্ব বর্তমান বিশ্বে ঝড়ো সমুদ্রের আলোকবর্তিকা। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শক্তি সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা পর্যন্ত আমাদের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আমাদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাই।”

ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছে, জনসন আজ নয়াদিল্লিতে তার বৈঠকে পরিষ্কার এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির বিষয়ে নতুন সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করবেন, যার লক্ষ্য আমদানি করা তেল থেকে ভারতের শক্তি স্থানান্তরকে সমর্থন করা এবং নিরাপদ এবং টেকসই শক্তির মাধ্যমে এর স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা এবং যুক্তরাজ্য ও ভারত উভয়ের জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করা।

ইতোমধ্যে, যুক্তরাজ্য এবং ভারত সাশ্রয়ী মূল্যের সবুজ হাইড্রোজেনকে ত্বরান্বিত করতে একটি ভার্চুয়াল হাইড্রোজেন বিজ্ঞান এবং উদ্ভাবন হাব চালু করছে, সেইসাথে কোপ-২৬-এ ঘোষিত গ্রিন গ্রিড ইনিশিয়েটিভের জন্য নতুন অর্থায়ন এবং সমগ্র ভারতে যৌথ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বিদ্যুতায়নের কাজে সহযোগিতা। অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর পাশাপাশি, যুক্তরাজ্য এবং ভারত বিশ্বজুড়ে ভালোর জন্য একটি শক্তি হিসাবে একসাথে কাজ করছে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক