রেজ্যুলেশনটিতে আফগান ইস্যুতে ভারতের উদ্বেগের বিষয় গুলোই তুলে ধরা হয়েছিলো

আফগানিস্তানের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণ করতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। গত সোমবার, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী সদস্যদের সমন্বয়ে ভারতের সভাপতিত্বে উক্ত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গিয়েছে, রেজ্যুলেশনটিতে আফগান ইস্যুতে ভারতের উদ্বেগের বিষয় গুলোই মূলত তুলে ধরা হয়েছিলো। প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো যথাক্রমে, আফগান ভূখন্ড ব্যবহার করে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেনা; আফগান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো সন্ত্রাসবাদীকে আশ্রয় দেয়া হবেনা, অর্থায়ন করা হবেনা এবং জঙ্গীবাদী কোনো প্রশিক্ষণ দেয়া যাবেনা; নারী, শিশু, ও পুরুষকে সমান মানবাধিকার দিতে হবে; সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ করতে হবে; যেসব আফগান নাগরিক দেশ ছাড়তে চান, তাদেরকে সে সুযোগ দিতে হবে প্রভৃতি।

বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১৩ টি। চীন এবং রাশিয়া ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকায় ১৩-০ ভোটে প্রস্তাবটি পাশ হয়। প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত ২৫৯৩ নং প্রস্তাব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সকল সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়ার শেষদিনই এমন প্রস্তাব গৃহীত হলো নিরাপত্তা পরিষদে।

বৈঠকটিতে ভারতের পক্ষে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র সচিব শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক ভারতীয় কূটনীতিক জানান, “জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানের সামগ্রিক উন্নয়নের গতিপথ পুনরায় রচিত করবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও নিজেদের মতামত তুলে ধরতে পারছি। এটি আমাদের জন্য গর্বের।”

উল্লেখ্য, প্রস্তাবটি পাশের বিষয়ে গত কদিন যাবতই নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ করছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে ফোনালাপ সহ অন্যান্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা অব্যহত রাখেন ভারতীয় নেতৃত্ব।

ইতোপূর্বে, চলতি বছর আগস্ট মাসের ০৬, ১৬ এবং ২৭ তারিখ আফগানিস্তান নিয়ে ক্রমাগত সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেন নিরাপত্তা পরিষদ। ভারত শুরু থেকেই দেশটিতে তালেবান নৃশংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে নিশ্চয়তা পেলে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে পারে ভারত।